বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন নয়, বরং তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে—যাতে তারা আর চাঁদাবাজিতে জড়াতে না পারে। তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে দুঃশাসন ও দুর্নীতির কারণে দেশকে তলিয়ে দেওয়া হয়েছে। একক কোনও দলকে দায়ী করা যায় না। অতীতে যারা শাসন করেছেন, তাদের মধ্যে কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না যে তারা সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করেছেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী তাজ উদ্দিন খান এবং মেহেরপুর-২ আসনের প্রার্থী নাজমুল হুদা’র সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।
জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, মেহেরপুর ছোট জেলা হলেও চাঁদাবাজদের দখলে চলে গেছে। জনগণের রায়ে জামায়াত ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজদের দায়িত্ব নেওয়া হবে এবং তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হ্যাঁ মানে স্বাধীনতা, না মানে দাসত্ব। আমাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট। সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশ বিজয়ী হবে।”
ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ ভোট ডাকাতি করতে গেলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান গত ৫৪ বছরের শাসকদের সমালোচনা করে বলেন, এত বছরে দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ সমাজ মাদকসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। দায়িত্ব পেলে দেশকে “ফুলের মতো সাজাবো” বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান, বলেন—জামায়াত চাঁদাবাজি করবে না, দুর্নীতি করবে না এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না। বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভাতা দিলে বেকারত্ব কমে না, বরং বাড়ে। ভাতা নয়, কাজ দেওয়া হবে।”
জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান দুই আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় নির্বাচনি প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সহযোগিতা কামনা করেন। মেহেরপুরবাসীর কাছে ভোট দিয়ে প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।