এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ শটগানে শুধুমাত্র রাবার বুলেট ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছেন খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রেজাউল হক। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোরের পুলিশ সুপাররের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘শটগানে সাধারণত দুই ধরনের বুলেট ব্যবহার করা হয়। একটি রাবার বুলেট, অপরটি মেটাল। মেটাল বুলেট ব্যবহারে মানুষের শরীরে বিদ্ধ হলে আক্রান্ত বেশি হয়। কোনও মানুষকে আক্রান্ত করা আমাদের লক্ষ্য নয়। কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হলে আগে দুই রকমের বুলেটই ব্যবহার করা হতো। এবার টোটালি মেটাল বুলেট ব্যবহার করা হবে না। আমরা মেটাল বুলেট ইস্যু করিনি। ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের জন্য এবার শুধুমাত্র রাবার বুলেট ইস্যু করা হয়েছে। রাবার বুলেটও যেন আমাদের ব্যবহার করতে না হয়, সেই দোয়া করবেন। তারপরও যদি কোনও কেন্দ্র আক্রান্ত, ব্যালট বাক্স ছিনতাই কিংবা ভোটাররা আক্রান্ত হন, তখন সিআরপিসি ও বিআরবি বিধিবিধান অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অতীতে প্রার্থীদের কাছ থেকে পুলিশের ঘুষের খাম গ্রহণের যে সংস্কৃতি ছিল সেটি বন্ধ হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি রেজাউল হক বলেন, ‘খুলনা রেঞ্জে ৬৪টি থানা রয়েছে। এ জাতীয় কোনও অভিযোগে কেউ আমাকে রিপোর্ট করেনি। পরিবারের প্রধান মানুষ হিসেবে সহকর্মীদের প্রতি আমার আস্থা আছে। প্রফেশনালের বাইরে কারা কাজ করে আমার একটু হলেও ধারণা আছে। ফলে আমার বিশ্বাস কোনও সহকর্মী আমাকে ছোট করবে না। তারপরও যদি কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ থাকে, জানাবেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র প্রসঙ্গে রেজাউল হক বলেন, ‘সব কেন্দ্রই সাধারণ, আবার সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। যখন কোনও কেন্দ্রে কোনও ঘটনা ঘটে তখন সেই মুহূর্ত থেকে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হয়। ঝুঁকি বলতে বোঝা যায় দুর্গম, দূরবর্তী ও সীমান্তবর্তী, ফোর্স পৌঁছাতে সময় লাগে এমন এলাকা। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে সব বাহিনী মোতায়েন করা যায় না। সেখানে পুলিশ ও বিজিবি ছাড়া মোতায়েন করা সম্ভব হয় না। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। অন্য কোনও বিষয় পুলিশের আওতায় নেই। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে পুলিশ পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। আইনের বাইরে কারও প্রতি বিরাগ কিংবা ভালোবাসা দেখানোর সুযোগ নেই।’
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবুল বাশার প্রমুখ।