যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ মামলার আসামি মনিরুল ইসলাম নামে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। শনিবার রাতে শহরতলীর ঝুমঝুমপুরের মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মনিরুল ইসলাম শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ার আব্দুল খালেকের ছেলে। রবিবার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় মনিরুলকে আদালতে সোপর্দ করা হলে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব আহম্মেদ ইমন আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মনিরুলের স্বীকারোক্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল। এটির নম্বর প্লেটে লেখা ছিল ‘হাদি ইজ নট নেইম, হাদি মিনস বাংলাদেশ’ অর্থাৎ ‘হাদি শুধু নাম না, হাদি মানে বাংলাদেশ।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) অলক কুমার দে বলেন, ‘গ্রেফতার মনিরুলের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। রবিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘এ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের জামাই পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার ত্রিদিব ওরফে মিশুক, শাহীন কাজী ও সর্বশেষ মনিরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার পাঁচ জনের মধ্যে তিন জন আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছেন।’
পুলিশ জানায়, আসামিদের দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, আলমগীর হোসেনকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন জামাই পরশ। পরশ তার শ্বশুর আলমগীরকে হত্যা করতে খরচ ধরে ছিলেন ১৫ লাখ টাকা। ঘটনার দিন হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৫ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন পরশ। বিকালে পরশ এক লাখ টাকা ও একটি পিস্তল দিয়েছিলেন শুটার মিশুককে। হত্যার পর বাকি ৪ লাখ টাকা পরশ শংকরপুরের প্রিন্সের কাছ থেকে ধার নিয়ে রাতে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। বাকি ১০ লাখ টাকা সুবিধামতো সময়ে দেওয়া হবে বলে তাদের নিশ্চিত করেন পরশ। হত্যা মিশনে তারা ১০ থেকে ১২ জন অংশ নেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম মোটরসাইকেলে ছিলেন অমিত ও শুটার মিশুক। পরের মোটরসাইকেলে আরও দুজন এবং তৃতীয় মোটরসাইকেলে ছিলেন তিন জন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে আলমগীর যখন মোটরসাইকেল চালিয়ে শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে আসেন, সে সময় তিনটি মোটরসাইকেলে তাকে অনুসরণ করতে থাকে। ইসহাক সড়কে ঢুকে আলমগীর একটি দোকানে কিছু সময়ের জন্য দাঁড়ান। তারাও দাঁড়িয়ে যান। সেখান থেকে আলমগীর বের হলে এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল আগে চলে যায়। আলমগীর যখন সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের কাছাকাছি পৌঁছান, সে সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে মিশুক। এরপর চার জন দুটি মোটরসাইকেলে দ্রুত চলে যান গোলপাতা মসজিদের দিকে। আর শাহীন কাজীর তৃতীয় মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থল থেকে ঘুরিয়ে ফের বটতলার দিকে চলে গিয়েছিল।
গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আলমগীর হোসেন যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কের ইন্তাজ চৌধুরীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা আক্তার বাদী হয়ে জামাই পরশ, সাগরসহ অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি থানা হত্যা মামলা করেন।
পুলিশে হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান চালিয়ে নিহতের জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল শুটার বেজপাড়ার ত্রিদিব ওরফে মিশুককে গ্রেফতার করা হয়। মিশুকের স্বীকারোক্তিতে গ্রেফতার করা হয় শহরের রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার শাহীন কাজীকে। তিনিও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে আসে মনিরুলের নাম। সেই সূত্র ধরেই মনিরুলকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার মনিরুলকে আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।