খুলনাসহ ১৫ জেলায় পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও বিপণন স্বেচ্ছায় বন্ধ রেখেছেন ফিলিং স্টেশনের মালিকরা। চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগে শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে এই কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এরই মধ্যে খুলনার দৌলতপুরে অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন তারা।
শনিবার দুপুর ১২টায় খুলনা ট্যাংকলরি ওনার্স ভবনে জ্বালানি ব্যবসা সংশ্লিষ্ট চারটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাম্পের মালিকদের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে প্রতিটি পাম্পের চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সভায় বক্তারা বলেন, আগে প্রতিটি ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বৈশ্বিক সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্দেশনায় চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় খুলনা বিভাগসহ ১৫ জেলায় প্রতিদিন অকটেন, পেট্রল ও ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ লাখ লিটার। অথচ খুলনার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র নয় লাখ লিটার।
ফিলিং স্টেশন, এজেন্সি ও মালিকদের পক্ষ থেকে তিনটি ডিপো থেকেই অতিরিক্ত দেড় লাখ লিটার করে মোট সাড়ে চার লাখ লিটার তেল সরবরাহ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিপিসি তা গ্রহণ করেনি। এর প্রতিবাদে স্বেচ্ছায় তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফিলিং স্টেশনের মালিকরা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সহসভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন। এতে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ পিন্টু, শেখ আমানত আলী ও রফিকুল ইসলাম নন্টু।
খুলনা বিভাগীয় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সহসভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন বলেন, ‘কোনও পাম্পে যদি ১০ হাজার লিটার তেলের চাহিদা থাকে, সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র দুই হাজার লিটার। আবার পেট্রল দিলে অকটেন দেওয়া হচ্ছে না, অকটেন দিলে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না। এতে নানা ধরনের ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন পাম্পের মালিকরা। বিষয়টি বারবার জানানো হলেও সমাধান না হওয়ায় তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। তবে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে।’