আইজিপির বাড়ির বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ৩

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বাগেরহাট শহরের বাসভবনের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করার পাশাপাশি চুরি যাওয়া বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশের দায়ের করা একটি মামলায় বুধবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তাদের।

তারা হলেন- মো. রবিউল ইসলাম (২৮), আবদুল কাদের (২৪) ও মো. চঞ্চল শেখ (৩৮)। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায়।

এদিকে আইজিপির বাসভবনে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অনেক সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রকাশ করা হয়েছে, তা সত্য নয় বলে দাবি করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, মূলত ঝড়-বৃষ্টির কারণে ওই বাড়ির বাইরে ‘ছিঁড়ে পড়া সার্ভিস লাইনের তার’ খোয়া গেছে। বুধবার বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আবু রাসেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন অনলাইন ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়, আইজিপির বাসাভবনে চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা পুলিশের নজরে এসে। প্রকৃতপক্ষে আইজিপির বাগেরহাটের বাসভবনে কোনও চুরির ঘটনা ঘটেনি। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই কিছু গণমাধ্যম এ ধরনের তথ্য প্রচার করেছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো অপর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও একই দাবি করা হয়েছে।

দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রকৃত ঘটনা হলো, গত সোমবার আনুমানিক রাত ১১টার দিকে ঝড়-বৃষ্টির কারণে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে রাস্তার দিকে বাসার বাইরের দেয়াল সংলগ্ন সার্ভিস লাইনের বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তারগুলো নিয়ে যায়। বিষয়টি থানা পুলিশের নজরে আসার পর মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে খোয়া যাওয়া তার উদ্ধার এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আইজিপির বাসভবনে চুরিসংক্রান্ত ‘ভ্রান্ত’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের বাড়ি বাগেরহাট শহরের আমলাপাড়া এলাকায়। চারতলা বাড়িটির দ্বিতীয় তলার একটি ইউনিটে বাগেরহাটে এলে আইজিপি থাকেন। বাকি ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন সময় আমরা কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, কিছু লোক আছে যারা অনেক সময় তার কেটে নিয়ে যায়। তারা তারের খোসা ছাড়ানোর পর তামার অংশটি আলাদা করে বিক্রি করে। বিশেষ করে পুরাতন মালামাল কেনাবেচার (ভাঙারি) দোকানগুলোতে এসব বিক্রি হয়। এসব তার যারা কিনে তাদের বলবো, তারা যেন তামার খোলা তারগুলো যেন না কেনে। কারণ, এর সঙ্গে একটি অপরাধী চক্র জড়িত।’