বকেয়া পরিশোধসহ পাঁচ দফা দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের সাত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন অব্যাহত রেখেছেন। শুক্রবার বন্ধের দিন শেষে শনিবার থেকে আবারও ধর্মঘট চলবে। এছাড়া শুক্রবার বিকালে ক্রিসেন্ট জুট মিল গেটে শ্রমিক সমাবেশ থেকে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ- নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের ডাকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় রাজপথ-রেলপথ অবরোধ শুরু হয়ে বেলা ২টায় শেষ হয়। এ দিকে আন্দোলন প্রত্যাহার করে পাটকল চালুর বিষয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সিবিএ-নন সিবিএ নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন খুলনা জেলা প্রশাসক। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান। দু ঘণ্টার এ বৈঠকে শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি-বেতন পরিশোধসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এ সময় শ্রমিক নেতারা বলেন, ৮/৯ সপ্তাহ মজুরি না পেয়ে শ্রমিকরা আজ দিশাহারা। বাকি আনতে আনতে এখন দোকানদাররা আর কিছুই দেয় না। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটছে। অর্থাভাবে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এমনকি বিনা চিকিৎসায় অনেক শ্রমিক আজ মৃত্যুশয্যায়। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের সব পাওনা পরিশোধ করা না হলে আন্দোলন প্রত্যাহার করা সম্ভব না বলে উল্লেখ করেন শ্রমিক নেতারা।
বৈঠকে জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান দুই সপ্তাহের মজুরি নিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ করলে শ্রমিক নেতারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। পরে শ্রমিকদের দাবি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করার জন্য তিনদিন সময় নেন জেলা প্রশাসক। এ সময় শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট অব্যাহত রাখার কথা এবং দাবি বাস্তবায়ন না হলে সোমবার থেকে অবরোধ পালনের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ- নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেন, সদস্য সচিব সৈয়দ জাকির হোসেন, প্লাটিনাম সিবিএ সভাপতি কাওসার আলী মৃধা, সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, ক্রিসেন্ট সিবিএ সভাপতি মো. দ্বীন ইসলাম, স্টার সিবিএ সভাপতি মো. বেল্লাল মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক আ. মান্নান, আলীম সিবিএ সভাপতি আ. সালাম, সাধারণ সম্পাদক আ. রশীদ, ইস্টার্ন সিবিএ সভাপতি মো. আলাউদ্দীন, জেজেআই সিবিএ সভাপতি হাসান উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক হারুন আর রশিদ মল্লিক, কার্পেটিং সিবিএ সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম লাল, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওহাব।
/বিটি/
/আপ: এইচকে/