ভারতীয় চাল আমদানি

কুষ্টিয়ার তিন’শ মিলে ১ লাখ টন চাল মজুদ, ক্রেতা নেই

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরভারত থেকে চাল আমদানি বেড়ে যাওয়ায় আশানুরূপ ক্রেতা নেই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে। ফলে বিপাকে পড়েছেন মিলাররা। বর্তমানে তিন’শ মিলের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় দেড় শতাধিক মিল। একইসঙ্গে দাম কমায় চালের মজুদও পড়ে আছে প্রায় ১ লাখ টন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মোকামগুলোতে প্রায় এক মাস ধরে মন্দাভাব। ভারতীয় চালের দাম দেশীয় চালের তুলনায় কেজি প্রতি দুই থেকে তিন টাকা কম। ফলে সারাদেশে এখানকার চালের সরবরাহ কমেছে অনেক। আগে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকশ ট্রাক চাল সরবরাহ করা হলেও এখন ৩০টির বেশি যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে অসংখ্য মিল ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় বিক্রির প্রক্রিয়াধীন। আবার অনেক মিলে চাল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মিল মালিক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।
চালকল মালিক সমিতির শীর্ষ এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দেশের বাজারে এই মুহূর্তে যে চাহিদা তার চেয়ে দ্বিগুণ চাল ভারত থেকে আনা হচ্ছে। দেশীয় চাল পর্যাপ্ত পরিমাণে বিভিন্ন জেলার গোডাউনগুলোতে মজুদ রয়েছে। তার ওপর ভারত থেকে চাল আসায় বাজারে চালের ছড়াছড়ি। ভারতের চালের দাম দেশীয় চালের তুলনায় কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা কম। এসব কারণে দেশি চালের মজুদ বেড়ে যাচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর দোস্তপাড়া, আইলচারা ও বলভপুর এলাকায় কোনও মিলের সামনে ট্রাকের দেখা মেলেনি। বেশির ভাগ মিল বন্ধ পাওয়া গেছে। এতে শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। আবার অনেকে জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়েছেন।

ফোর স্টার, প্রগতি, আবদুল্লাহ মিলের মালিকেরা জানান, ক্রেতা না থাকায় তারা চাতালে চাল উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন।

জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, খাজানগর এলাকায় অটো রাইস মিল রয়েছে ২৬টি। হাসকিং রয়েছে প্রায় ২৬০টি।

মিল মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, খাজানগর এলাকায় এখন সব মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ টন চাল মজুদ রয়েছে। কিন্তু সামনে দেড় মাসের মধ্যে নতুন চাল উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। তখন মজুদকৃত চাল নিয়ে বিপাকে পড়তে পারেন তারা।

খাজানগর চালকল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল মজিদ বাবলু বলেন, অর্ধেক মিল মালিক তাদের চাতালে চাল উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের গুদামগুলোতে চালের বস্তার স্তূপ হয়ে আছে। যে সরু চাল ২০ দিন আগে বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৪৩ টাকা ৫০ পয়সা এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা ৫০ পয়সায়। ৩ টাকা কম, তারপরও ক্রেতা নেই। এ দাম আরও কমতে পারে।

কুষ্টিয়ার অ্যাগো ফুডের স্বত্বাধিকারী ওমর ফারুক বলেন, মূলত ভারতীয় চাল আসার কারণে আমাদের দেশীয় চালের বাজারে ধস নেমেছে। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে আমাদের চাল প্রতি কেজিতে দুই থেকে আড়াই টাকা কমে গেছে।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি কুষ্টিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সাধু জানান, প্রতিদিন যেখানে ব্যবসায়ীদের পদভারে খাজানগর জমজমাট হয়ে উঠতো সেখানে এখন ক্রেতাই নেই। গত বছর এমন ছিল না। বিক্রি কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মিল মালিকেরা। হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছেন।

/বিটি/এএইচ/