ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার (এসপি) মাহফুজ আফজালকে আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জেলা পুলিশ থেকে সরিয়ে পুলিশ সদরদফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক আদেশে ঝিনাইদহের এসপিকে প্রত্যাহারের এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়, মাহফুজ আফজাল জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার অর্পণ করে ৫ জুনের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন। তবে দাফতরিক আদেশে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঝিনাইদহের এসপি হিসেবে যোগ দেন মাহফুজ আফজাল। কিন্তু তার এই সংক্ষিপ্ত দায়িত্বকালেই জেলায় একের পর এক লাশ উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বিশেষ করে হরিণাকুণ্ডুর ভাতুড়িয়া এবং সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে দুটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, শৈলকুপায় একের পর এক সামাজিক বিরোধ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং জেলাজুড়ে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে জেলা পুলিশের এক ধরনের শৈথিল্যতা লক্ষ্য করা গেছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় শহরের চর খাজুরা গ্রামের একটি আবাসনে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে প্রকাশ্যে পিটিয়ে একজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওরীর ওপর হামলার ঘটনাটিও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এসব ঘটনায় স্থানীয় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের চরম ব্যর্থতা ও এসপির প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সরকারের উচ্চমহল বিব্রত হয়।
এদিকে প্রশাসনিক ব্যর্থতার পাশাপাশি এসপি মাহফুজ আফজালের সাম্প্রতিক একটি ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়েও জেলাজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর দিনে এসপি তার সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অনুরোধে একটি জমকালো ‘ঈদ পুনর্মিলনী’ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করেন।
শোকাবহ সেই দিনে যেখানে জেলাজুড়ে নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি চলছিল, সেখানে এসপির বাংলোতে এ ধরনের জমকালো আয়োজনে খোদ আমন্ত্রিত অতিথিদের অনেকেই চরম বিব্রত ও ক্ষুব্ধ হন। অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে আরও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে যখন এসপির স্ত্রী নিজেই সেখানে একাধারে পাঁচটি গান পরিবেশন করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একের পর এক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, জেলায় ক্রমাগত লাশ উদ্ধার এবং সর্বশেষ এই বিতর্কিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জের ধরেই শেষ পর্যন্ত তাকে ঝিনাইদহ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে ক্লোজ করা হলো।