সংসারই চলে না, মাংস খাওয়া তো স্বপ্নের মতো

‘আগে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলতো। এখন সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ। কোনও কাজ নেই, সংসার চালানোর অর্থও নেই। তিন বেলা খাবার জোগাতেই হিমশিম খেতে হয়। তরিতরকারি ও মাছ কিনবো কীভাবে। আর মাংস কেনা এবং খাওয়া তো আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো।’

দৈনন্দিন জীবনের নানা সংকট ও দূরাবস্থার এই কথাগুলো বলেছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া এলাকার বনজীবী লিয়াকত আলী। শুধু লিয়াকত নন, উপকূলের জেলে, বাওয়াল, মৌয়াল, গোলপাতা সংগ্রহকারী শ্রমজীবী সব মানুষের পরিবারের চিত্র একই। এজন্য তাদের দেখা দিয়েছে পুষ্টি ঘাটতি। দ্রব্যমূল্যের চাপে সীমিত আয়ের এসব মানুষ সংসার চালাতে একপ্রকার যুদ্ধ করছেন।

মানুষের খাদ্য-তালিকায় মাছ-ভাত প্রধান হলেও শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিনের অন্যতম প্রধান উৎস হলো লাল মাংস (গরু, খাসি কিংবা ভেড়া)। কিন্তু সাতক্ষীরার উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্নবিত্ত ও দিনমজুর পরিবারের মানুষের কাছে মাংস খাওয়া এখন যেন স্বপ্নের মতো। মাংস কিনে খাওয়া তো দূরের কথা, বছরে শুধু কোরবানির সময়ই তারা একটু মাংসের মুখ দেখেন বলে জানালেন।

মাংস কিনে খাওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর সাতক্ষীরা জেলা ও কমিউনিটি রিপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করলে এই অঞ্চলের চরম অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। শুমারি অনুযায়ী, শ্যামনগর উপজেলার মোট জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ এখনও চরম দারিদ্র্য নির্দেশক সূচকের মধ্যে বাস করছে। বিশেষ করে উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নে ১৫ হাজার ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ২৯০টি পরিবার পাকা বা আধা-পাকা ঘরে থাকার সামর্থ্য রাখেন। বাকি প্রায় ৯১.৪৮ শতাংশ পরিবারই বাস করছে ভাঙাচোরা কাঁচাঘর ও ঝুপড়িতে। চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা বাসস্থানহীন এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষে নিয়মিত বাজার থেকে মাছ ও মাংস কিনে খাওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় আইলা, আম্পান, ইয়াস, ফণী, বুলবুল কিংবা সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় রিমাল ও নদীভাঙনের মতো একের পর এক দুর্যোগের কারণে উপকূলের মধ্যবিত্তরাও এখন নিঃস্ব হয়ে নিম্নবিত্তে পরিণত হয়েছে। ফলে এই অঞ্চলে সামর্থ্যবানদের কোরবানি দেওয়ার হারও ৩০ শতাংশ কমে গেছে।

কোরবানির ঈদ এলেই মাংস চোখে দেখি

গাবুরার ডুমুরিয়া এলাকার মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদের দিন ডুমুরিয়ার তরফদার বাড়ি জামে মসজিদসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এবার কোরবানিদাতা কমে গেছে। এজন্য আমার মতো দুস্থ পরিবারগুলোর ভাগ্যে ২৩০ গ্রাম করে মাংস জুটেছে। গত কোরবানির পর এবার ঈদে মাংস চোখে দেখলাম। বছর ঘুরে আসা ঈদের দিনের এই মাংসটুকুই খেয়েছি। আবার এক বছর অপেক্ষায় থাকতে হবে।’

উপকূলের গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী ও শ্যামনগর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এখানকার অধিকাংশ মানুষের দৈনিক খাদ্য-তালিকায় পুষ্টিকর খাবারের তীব্র অভাব রয়েছে। ডাল, আলু কিংবা সামান্য শুঁটকি মাছ দিয়েই চলে তিন বেলার আহার। এমনকি উন্নত ও আধুনিক রান্নার জ্বালানি (এলপি গ্যাস) ব্যবহারের সক্ষমতা নেই গাবুরার ৯৭ দশমিক ৮০ শতাংশ পরিবারের। তারা রান্নার কাজে খড়কুটো, শুকনো লতাপাতা ও কাঠ ব্যবস্থা করছেন। যা তাদের অভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে। কোনও কোনও পরিবারের শিশুদের শুধু ভাত খেতে দেখা গেছে।

কোনও কোনও পরিবারের শিশুদের শুধু ভাত খেতে দেখা গেছে

সংসারের এমন দূরাবস্থার কথা জানিয়েছেন গাবুরার ডুমুরিয়া এলাকার আমেনা খাতুন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার স্বামী সুন্দরবনে মধু আহরণ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান এখান থেকে ২২ বছর আগে। ছেলেমেয়েকে নিয়ে অনেক দুঃখ-কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। এখনও ভাতার কার্ড কিংবা সরকারি কোনও সহায়তা পাইনি। সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরে, মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনও রকমে সংসার চালাচ্ছি। বছরের বারো মাস সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়, মাছ কিংবা মাংস কিনবো কীভাবে? বছরে শুধু কোরবানির ঈদ এলে মাংস খাওয়া হয়। আর মাংস কেনা হয় না। এখন শরীরও দুর্বল হয়ে পড়েছে, বেশি কাজ করতে গেলে মাথা ঘোরে। আগের মতো দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারি না। অল্পতেই দুর্বল হয়ে পড়ি।’

তাদের এই শারীরিক দুর্বলতার পেছনে রয়েছে কর্মসংস্থান ও আয়ের তীব্র সংকট। পরিসংখ্যান ব্যুরোর টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট সূচক অনুযায়ী, শ্যামনগর ও গাবুরা অঞ্চলের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী যুবসমাজের এক বিরাট অংশ (বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি) কোনও প্রকার শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা কারিগরি প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নেই। ঘরে ঘরে কর্মক্ষম মানুষের এই বেকারত্বই উপকূলের পরিবারগুলোকে পুষ্টিকর খাদ্য কেনা থেকে বঞ্চিত রাখছে। কাজ না থাকায় অনেকে খাবারও জোগাতে পারে না।

লাল মাংসের ঘাটতি ও মা-শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি

উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের এই পুষ্টিহীনতা ও শারীরিক জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ জামিল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শরীরে আয়রনের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও প্রকৃষ্ট উৎস হলো গরুর মাংস এবং গরুর কলিজা। যেসব মাংস কাটলে লাল দেখায়, সেগুলোতে আয়রনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। মুরগির মাংসে কিন্তু ওরকম আয়রনের উৎস নেই। আবার অনেকে মনে করেন কচুশাক বা লালশাকে প্রচুর আয়রন, কিন্তু এগুলো আসলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির উৎস। গরুর মাংসের সমকক্ষ কিছুই নেই। ফলে দীর্ঘদিন যারা গরুর মাংস কিংবা লাল মাংস খেতে পারছে না, তারা নিশ্চিতভাবেই মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের শরীরে, দেখা দিচ্ছে আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া বা আয়রনের ঘাটতিজনিত তীব্র রক্তস্বল্পতা।’

বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ডা. ফরহাদ জামিল আরও বলেন, ‘নারীদের প্রতি মাসে মাসিকের কারণে শরীর থেকে রক্ত ও আয়রন বের হয়ে যায়। এই ঘাটতি পূরণে শুধু ওষুধ বা সরকারিভাবে দেওয়া আয়রন ও ফলিক এসিড ট্যাবলেট খেলেই হবে না, পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারও খেতে হবে। মা অপুষ্টিতে ভুগলে তার প্রভাব সরাসরি অনাগত শিশুর ওপর পড়ে। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলে শিশুও অপুষ্টির শিকার হয়। ফলে নবজাতকের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হয়। বাচ্চা ভূমিষ্ট হওয়ার পর সেই দুর্বল শিশুকে বাঁচাতে তখন আইসিইউ বা বিশেষ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, যা দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য একটি বিশাল আর্থিক বোঝা। মানে একটার ঘাটতি আরেকটা ঘাটতির জন্ম দিচ্ছে।’

৫০ শতাংশ নারী অপুষ্টিতে ভুগছেন

গাবুরার ডুমুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) হেলেনা বিলকিস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং আবহাওয়া-জলবায়ুর প্রতিকূলতার কারণে শাকসবজি বা ফলমূল সচরাচর জন্মায় না। বর্ষাকাল ছাড়া বছরের বাকিটা সময় এই উৎপাদন প্রায় বন্ধ থাকে। এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র হওয়ায় বাইরের থেকে চড়া দামে এসব পুষ্টিকর খাবার কিনে খাওয়ার সামর্থ্যও নেই। সারা দেশের তুলনায় এখানকার গর্ভবতী মা ও শিশুরা মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে উচ্চ প্রোটিনের উৎস খুবই সীমিত। পোল্ট্রি মুরগি ছাড়া গরুর মাংস কিনে খাওয়ার সামর্থ্য সাধারণ মানুষের বছরে একবার ঈদের সময় ছাড়া হয় না। আমাদের এলাকার প্রতি ১০ জন মায়ের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই (৫০ শতাংশ) মাঝারি ধরনের অপুষ্টিতে ভুগছেন। আর প্রতি ৫০ জনে গড়ে একজন মারাত্মক তীব্র অপুষ্টির শিকার। এই অপুষ্টির সমস্যাটি মূলত শুরু হয় মায়ের গর্ভকাল থেকেই। একজন গর্ভবতী মা নিজে অপুষ্টিতে ভুগলে তার সন্তানও জন্মগতভাবে অপুষ্টি নিয়ে জন্মায়। পরবর্তীতে চরম দারিদ্র্যের কারণে পরিবারগুলো শিশুদের সঠিক পুষ্টি দিতে পারে না। এর ওপর এলাকায় বাল্যবিবাহের হার অনেক বেশি। অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে ও গর্ভধারণের ফলে মায়েরা যেমন শারীরিক ও পুষ্টিগতভাবে দুর্বল থাকেন, তেমনি তাদের সন্তানরাও তীব্র পুষ্টিহীনতার শিকার হচ্ছে। সবমিলিয়ে আমাদের এলাকার মানুষ অপুষ্টির এক ভয়াবহ দুষ্টচক্রে আটকে আছেন।’

সমাধান কী

উপকূলের মানুষের পুষ্টির এই ঘাটতিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোণ থেকে দেখছেন শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান। তার মতে, শুধু গরুর মাংস বা লাল মাংসের ওপরই পুষ্টির চাহিদা সম্পূর্ণ নির্ভর করে না।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বছরে মানুষ একবার গরুর মাংস খাচ্ছে-এটি শুনতে হয়তো খারাপ শোনায়, কিন্তু আমিষ বা প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য কেবল গরুর মাংসই লাগবে এমন কোনও কথা নেই। আমাদের এই উপকূলীয় অঞ্চলে নদী ও ঘেরের কারণে মাছের প্রাধান্য রয়েছে। এখানকার প্রায় প্রতিটা পরিবারে কম-বেশি মাছের ব্যবস্থা থাকে এবং মানুষের আমিষের মূল চাহিদাটা মূলত এই মাছ থেকেই আসে।’

শ্যামনগর উপজেলার মোট জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ এখনও চরম দারিদ্র্য নির্দেশক সূচকের মধ্যে বাস করছে

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মাছ ছাড়াও বর্তমানে উপকূলীয় এলাকার ঘরে ঘরে ব্যাপকভাবে হাঁস ও মুরগি পালন করা হচ্ছে। ফলে নিয়মিত গরুর মাংস কিনতে না পারলেও ডিম, মুরগি বা হাঁসের মাংসের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষ তাদের পুষ্টির ঘাটতি অনেকটাই মিটিয়ে নিতে পারে। তাই গরুর মাংসের এই চড়া দামের কারণে পুষ্টির ক্ষেত্রে সরাসরি বড় কোনও বিপর্যয় ঘটছে-এমনটা ঢালাওভাবে বলা ঠিক হবে না।’

দিন দিন বেড়েই চলছে পুষ্টিহীনতা 

সাউদার্ন চ্যারিটি যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গাবুরা এবং পাতাখালি অঞ্চলের মানুষের মাঝে পুষ্টিহীনতার সমস্যা অত্যন্ত প্রকট এবং দিন দিন বেড়েই চলেছে। নদী উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ নদী থেকে কম-বেশি মাছ পায়, ফলে তাদের আমিষের ঘাটতি কিছুটা পূরণ হয়। কিন্তু আমিষের বাইরে অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদানের তীব্র সংকট রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানকার মানুষ পুষ্টির আদ্যোপান্ত বা সুষম খাদ্যের সমতা নিয়ে ভাবার সুযোগ পায় না। এমনকি শর্করার প্রধান উৎস হিসেবে আমরা যে চাল কিংবা আটা গ্রহণ করি, আমাদের নিয়মিত খাওয়া সেই চালের শর্করার মানও পুষ্টিগুণ অনুযায়ী সঠিক নয়। আটার মধ্যে প্রচুর শর্করা ও পুষ্টি থাকলেও গাবুরার মানুষ সাধারণত আটা বা রুটি খেতে অভ্যস্ত নয়; কেবল শীতকালে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে তারা ঘরে সামান্য রুটি তৈরি করে। ফলে খাদ্যাভ্যাসের এই সীমাবদ্ধতার কারণে পুষ্টির একটি বড় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।’

গাবুরা ইউনিয়নের মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্যের একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কেউ কেউ মনে করেন এখানকার মাত্র ৫ শতাংশ মানুষের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে। তবে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে এই হার ১০ শতাংশের মতো। ইটভাটার মৌসুম শুরু হলে এখানকার শ্রমিক পরিবারগুলো ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম দাদন নেয়। এই দাদনের টাকা দিয়ে তারা বছরের অন্য সময়েও মাঝেমধ্যে মাংস কিনে খেতে পারে। তবে এর মধ্যেও একটি বড় অংশ-বিশেষ করে দুস্থ পরিবার ও বিধবা নারীরা চরম খাদ্য সংকটে থাকে। তাদের মাংস কেনার আসলে সামর্থ্যই নেই।’

সমস্যা নিরসনে প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ

এই সমস্যা নিরসনে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানালেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এলাকা দুর্যোগপ্রবণ। প্রতি বছর কোনও না কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানে আঘাত হানে। আমাদের অঞ্চলে একদিকে তীব্র লবণাক্ততা এবং অন্যদিকে অনাবৃষ্টি বা খরা বিরাজ করছে। এখানকার পুরো পরিবেশটাই লবণাক্ত, যার ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিম্নমুখী। এই প্রতিকূল পরিবেশের কারণে স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যগত অবস্থা খুবই নাজুক। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এলাকার মানুষের আর্থিক সক্ষমতাও অনেক কম; যার ফলে ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যার ৫ থেকে ১০ শতাংশের কোরবানি দেওয়ার মতো সামর্থ্য আছে। তারা কোরবানি দিলেও সবার কাছে মাংস পৌঁছায় না। এজন্য দরকার সরকারি উদ্যোগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। সরকার এসব অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন ধরনের কার্ড চালু করেছে। সরকারিভাবে যদি পুষ্টি কার্ড বা দুস্থদের জন্য বিশেষ পুষ্টিকর খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতো, তবে এ অঞ্চলের মানুষের পুষ্টি ঘাটতি দূর হতো।’