জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘মনে হচ্ছে নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে আরেকটা অনিবার্য বিপ্লবের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। এ বিপ্লব কোনও দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনও গোষ্ঠী এবং পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়, কোনও আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়; বরং দুনিয়ার বুকে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি, সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য হবে আগামীর বিপ্লব।’
শোষণমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন হয় না, সেখানেই আমরা জনগণের সঙ্গে কথা বলবো। দেশের মাঠে-ময়দানে গণজাগরণ সৃষ্টি হবে| জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আপনারা ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছেন। এখন নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে প্রয়োজন হলে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’
শনিবার (২০ জুন) বিকালে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রাখেনি। আমরা বলেছি, আপনারা ভুল করছেন। ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসেন। জনরায়কে সম্মান করুন। জনরায়কে সম্মান না করার পরিণতি কী হতে পারে, দফায় দফায় দেখার পরও যদি শিক্ষা না হয়, জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না।’
জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘আমরা জানি, সহজে কানে পানি ঢুকবে না। সিরিঞ্জ দিয়ে যদি পানি ঢুকাতে হয়, তাহলে সেভাবেই পানি ঢুকাবো। যদি ফায়সালা সংসদে না হয়, তাহলে যেখানে কথা বলতে মাননীয় স্পিকার বলতে হয় না, যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমোদন লাগে না, সেই খুলনার মাঠ বরিশালের মাঠ, কুমিল্লার মাঠ, সিলেটের মাঠ, চট্টগ্রামের মাঠ, ময়মনসিংহের মাঠ, রংপুরের মাঠ, বগুড়ার মাঠ, রাজশাহীর মাঠ—সব জায়গা থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। এই আগ্নেয়গিরির দাবানলে সমস্ত আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।’
জামায়াত দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক তা চায় না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশকে আমরা ভালোবাসি। শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। এ কথা মনে করবেন না কেউ, নির্বাচনের ফলাফল দেশে একটা গৃহযুদ্ধ শুরু না হোক, সেই জন্য আমরা মেনে নিয়েছিলাম। কারও বাপ–দাদার চোখ রাঙানিকে আমরা পরোয়া করবো না। অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করবো না। আমাদের নেতৃবৃন্দ হারতে হারতে ফাঁসির তক্তায় দাঁড়িয়ে মুচকি হাসি দিয়ে আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে জাতির জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) যুগ্ম সচিব আবদুল্লাহ আল মামুন (রানা), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।