পহেলা বৈশাখের বাজার ধরতে ব্যস্ত ফুলচাষীরা

কয়েকদিন আগে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন ঝিনাইদহের ফুলচাষীরা। কিন্তু পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। পহেলা বৈশাখে ফুলের চাহিদা বাড়তি থাকায় ব্যবসায়ীরাও তাকিয়ে আছেন বৈশাখের বাজারের দিকে।
মঙ্গলবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্রই। জেলার মধ্যে ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নেই সবচেয়ে বেশি ফুল চাষ হয়ে থাকে। এ ইউনিয়নের ফুলচাষী ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা এখন দিনরাত কাজ করছেন। ক্ষেত থেকে ফুল তোলা, বাড়িতে এনে ঝোপা তৈরি ও হাটে নিয়ে বিক্রি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আর এখান থেকেই ফুল যাচ্ছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার প্রায় ১৫০০ একর জমিতে গাঁদাফুলসহ নানা জাতের ফুল চাষ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ফুল চাষ হচ্ছে কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে। চলতি মৌসুমে এ ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের ৭৬৭ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে। এছাড়া জেলার শৈলকুপা, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও সদর উপজেলার ৩০টি গ্রামেও চাষ করা হচ্ছে ফুল।
কৃষকেরা জানান, কয়েকদিন আগে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এরকম দুর্যোগ না হলে একবিঘা জমিতে ফুলচাষে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। আর ফুল বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার। ফুলচাষে স্বাবলম্বীও হয়েছেন অনেকে। মাঠ থেকে ফুল তুলে নারীরা বাড়িতে বসে ঝোপা তৈরি করেও বাড়তি আয়ও  করছেন।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু


ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, এ বছর তিনি ৩ বিঘা জমিতে ফুলের চাষ করেছেন। গত সপ্তাহের কালবৈশাখী ঝড়ে বেশ ক্ষতি হয়েছে। বৈশাখের বাজারে যদি ফুলের দাম বেশি পাওয়া যায় তাহলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে।
একই গ্রামের কৃষক মুক্তার হোসেন ও শাখাওয়াত হোসেন জানান, বৈশাখ উপলক্ষে ফুলের দাম বেশি পাওয়া যাবে আশা করছি। এখন বাজারে ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা প্রতি ঝোপা ফুল বিক্রি হচ্ছে। বৈশাখের বাজার শুরু হলে তিনশ টাকা থেকে শুরু হকে সাড়ে তিনশ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হবে।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে আশা করছি বৈশাখের বাজারে তা পুষিয়ে নিতে পারবেন তারা।
তিনি জানান, পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ফুলের চাহিদার প্রায় অর্ধেকই পূরণ করেন ঝিনাইদহের ফুলচাষীরা। কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে পাইকাররা ফুল ক্রয় করে বিকালে সেগুলো জড়ো করেন শহরের প্রধান বাস টার্মিনালে। সেখান থেকে মামুন, ইউনিক, সোহেলী, সোনালীসহ বিভিন্ন পরিবহনে করে পাঠানো হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ সারাদেশের বিভিন্ন জেলায়।

আরও পড়ুন:

জাপার কারণেই ১/১১ এসেছিল: এরশাদ

/এমও/টিএন/আপ-এআর/