প্রকাশ্যে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, কারণ কী, কারা জড়িত

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় রুবেল হোসেন নামে যুবদলের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।  

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত রুবেল হোসেন (৩৮) উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যানের চালক ছিলেন। তিনি উপজেলার তেলীধান্যপুড়া গ্রামের মোনতাজ ঢালীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে রুবেল বাইরে থেকে কাভার্ডভ্যান চালিয়ে খাজুরায় আসেন। কাভার্ডভ্যানটি যশোর-মাগুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে খাজুরা তেলপাম্পে রেখে পাশের বাড়িতে যান। পরে সেখান থেকে হেঁটে তেলপাম্পের দিকে যাওয়ার সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে পৌঁছান। এ সময় রুবেলের পথ রোধ করেন তার বোনের দেবর একই গ্রামের রাব্বিসহ (২৫) তিন-চার জন। তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে রুবেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন রাব্বি। পরে রাব্বি সেখান থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করেন। দুপুর ১২টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী। সন্ধ্যার দিকে উপজেলার খাজুরা বাজার তেলেরপাম্প এলাকায় যশোর-মাগুরা মহাসড়কে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে রুবেলের প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। তেলীধান্যপুড়ার বাসিন্দা রাব্বি এই হত্যায় জড়িত দাবি করে তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন ও নেতাকর্মীরা রুবেল হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান।

অভিযুক্ত রাব্বি

কেন ঘটেছে হত্যাকাণ্ড

বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। নিহত রুবেলের মা ফিরোজা বেগম আহাজারি করে বলেন, ‘প্রায়ই সময় বখাটেদের নিয়ে রাব্বি তেলীধান্যপুড়া উলুমুল হাফেজিয়া কোরআন মাদ্রাসা মাঠে আড্ডা দিতো। একদিন মাদ্রাসার হুজুর রাব্বিকে এখানে আড্ডা দিতে নিষেধ করে। রাব্বি হুজুরের কথা না শুনে উল্টো হুজুরকে আজেবাজে কথা বলে হুমকি দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে রুবেল রাব্বিকে চড় মেরে শাসন করেছিলেন। সেই থেকে রুবেলের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল রাব্বি। মাঝেমধ্যে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিতো। সেই প্রতিশোধ হিসেবে রাব্বি ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেলের বুকে, পিঠে ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। আমি ছেলে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’ 
 
নিহত রুবেলের ভাই রাজিব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রুবেলকে হত্যা করতে রাব্বির সঙ্গে আরও দুই থেকে তিনটি মোটরসাইকেল এসেছিল তার সহযোগীরা। তারাও রুবেলের মতো তরুণ। আমরা এই হত্যার বিচার চাই। হত্যায় জড়িত রাব্বি ও তার সহযোগীরা। তারা এখন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।’  

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত রাব্বি ও তার সহযোগীরা ঘটনার পর থেকে পলাতক। রাব্বি ও তার সহযোগীদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’