খুলনায় শিশু হত্যা মামলায় ৯ জনের যাবজ্জীবন

আইন-আদালতখুলনার তেরখাদা উপজেলার বিপ্রআজগড়া এলাকার ১৩ বছরের শিশু আবুল কাশেমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলায় দুই পরিবারের আপন ছয় ভাইসহ ৯ জনের যাবজ্জীবন করাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস এম সোলায়মান বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন বিপ্রআজগড়া এলাকার আব্দুল খালেক শেখের চার ছেলে করিম শেখ, রহিম শেখ, জলিল শেখ ও সোবহান শেখ, মৃত নওয়াব আলী শেখের দুই ছেলে মো. গোলাম শেখ ও মো. জব্বার শেখ, সাত্তার মল্লিকের ছেলে সাইফুল মল্লিক, আক্কাস দাইয়ের ছেলে সাত্তার দাই, ফরিদ জমাদ্দারের ছেলে হারুন জমাদ্দার।
রায়ে ৩০২/৩৪ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে খুলনার তেরখাদা উপজেলার বিপ্রআজগড়া এলাকার রথখোলা সড়কের পাশে আলতাফ শেখের মটরশুটির খেতের পাশে শিশু আবুল কাশেমকে ডেকে নিয়ে আসামিরা শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ইসরাইল মল্লিক বাদী হয়ে পরদিন ২২ জনের নামে তেরখাদা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশের এসআই মো. রেজাউল ইসলাম ২০০৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে ৯ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। শুরুতে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে ২০০৬ সালের ২৫ জুন চার্জগঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এরপর ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মামলাটি খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি হয়। এই ট্রাইব্যুনালে ২০০৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে বিচার চলাকালে ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সব শেষে বুধবার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়তে পারেন: এশিয়ান টিভির টকশোর সময় ভূমিকম্প (ভিডিও)

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে পিপি আরিফ মাহমুদ লিটন ও আসামি পক্ষে মুজিবুর রহমান মামলাটি পরিচালনা করেন।

 

/বিটি/