ঘরে মা-ছেলেসহ ৩ জনের লাশ, হত্যার কথা তিন দিনেও টের পাননি প্রতিবেশীরা

বাগেরহাটের কচুয়ায় এক পরিবারের তিন জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম চান্দেরখোলা গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন থাকায় এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫), তার মা মনিরা বেগম (৫৫) ও নানি রাশিদা বেগম (৮৫)। নানির বাড়ি বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর এলাকায় বলে জানা গেছে।

‎প্রতিবেশী বুলু বেগম বলেন, মঙ্গলবার সকালে দুর্গন্ধ পেয়ে তাদের দেখতে গিয়ে ঘরের মধ্যে অর্ধগলিত লাশ দেখতে পাই। পরে স্থানীয়দের ডেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সবশেষ তাদের গত শনিবার দেখেছিলাম। প্রতিবেশীরাও বাড়িতে ছিলেন না। এ জন্য হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি টের পাইনি আমরা।

খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। নিহত প্রত্যেকের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, তিন দিন আগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়েছে।

রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম চান্দেরখোলা গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া কচুয়া থানার এস আই মো. মাহমুদ হাসান বলেন, ‘প্রতিবেশী কয়েকজন নারী প্রথমে বাড়ির বারান্দায় রাশিদা বেগমের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কারও কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের ভেতরে গিয়ে আহাদ ও তার মা মনিরা বেগমের লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি লাশ উদ্ধার করে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, তিন দিন আগে তাদের হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেশীরা বাড়িতে না থাকায় ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেননি। কারা কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতদের মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি হত্যায় কারা জড়িত এবং কেন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।’

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন আর রশিদ বলেন, ‘লাশগুলোর মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। বাড়িতে লোকজনের আনাগোনা না থাকায় বিষয়টি এতদিন কারও নজরে আসেনি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।’