যশোরের বাঘারপাড়ায় লুকিয়ে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই বোনও রয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের জামদিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃত তিন শিশু হলো- জামদিয়া দক্ষিণপাড়ার আশিকুর রহমানের মেয়ে ফাহিমা খাতুন (১০), একই গ্রামের নিছার আলী মেয়ে লামিয়া আক্তার (১৩) ও সুলতানা আক্তার (১০)। একসঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যুর এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ দিন মাগরিবের নামাজের পর তিন শিশুর পৃথক জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ওই তিন শিশু খেলা করছিল। এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে পুকুরে গোসল করতে নামে তারা। গোসলে নামার আগে তারা কেউ বাড়িতে জানায়নি। পুকুরটি বেশ গভীর হওয়ায় একে একে তিনজনই পানিতে তলিয়ে যায়। দুপুরের খাবারের সময় পার হয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তিন শিশুকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে পুকুরটির সিঁড়ির সামনে শিশুদের জুতা, জামা দেখে পুকুরে তল্লাশি শুরু করলে পুকুরের সিঁড়ির নিচে তাদের ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
তাদের প্রতিবেশী চাচা মাহবুর রহমান জানান, তারা নিয়মিত পুকুরে গোসল করে না। পুকুরের পাশেই শিশুরা খেলা করছিল। খেলা শেষে হঠাৎ তারা পুকুরটিতে নামে। ওই পুকুরটিতে লোকজন কম যায়। যারা গোসল করতে যায়, তারা গোসল করে চলে যায়। এই কারণে কারও চোখে পড়েনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার হুসাইন বলেন, শিশুরা স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। শিশুর পরিবারগুলো অত্যন্ত দরিদ্র। ময়নাতদন্ত ছাড়াই তিন শিশুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুর পরিবারদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বাঘারপাড়া থানার ওসি শাহ জালাল আলম জানান, পুকুরটি মৃত শিশু ফাহিমাদের। সেটি এক রকমের পরিত্যক্ত ছিল। শুকনা মৌসুমে পুকুরটি পানি না থাকলেও বর্ষায় সেটি কানায় কানায় ভরে যায়। নিহত তিন শিশুর কেউই সাঁতার জানতো না। তারা কাউকে কিছু না জানিয়েই গোসল করতে নেমেছিল। পরিবারের কোনও অভিযোগ না থাকায় লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়ায় দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হবে।