নতুন বছরকে বরণ করে বর্তমান প্রজন্মের সামনে বাঙালীর প্রাচীণ ঐতিহ্য তুলে ধরে ঝিনাইদহে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বৈশাখী ঝাপাং খেলা। শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।
প্রত্যেক বছরের মতো এবারও ঝাপাং খেলা দেখতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো দর্শক হাজির হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সাপুড়েরা ঝাপাং খেলায় অংশ নেন। ঢাক-ঢোলের বাদন আর নাচ-গানে সাপুড়েরা দর্শকদের মন ভরিয়ে তোলেন।
ঝাপাং গান করতে আসা সাপুড়ে জানান, ২০ বছর ধরে সাপের খেলা দেখিয়ে ও ঝাপাং গান পরিবেশন করে মানুষের মন জয় করেছি। সাপুড়েদেরকে নিজে নাচতে হয় আর সাপও তার সঙ্গে হেলে দুলে নাচে। কোনও তন্ত্র-মন্ত্র নেই এ খেলাতে। নানা অঙ্গ ভঙ্গী করে সাপকে ফনা তুলে দীর্ঘক্ষণ রাখতে হয় মঞ্চে। যার সাপ যত বেশি উঁচু হয়ে বেশি সময় মঞ্চে থাকতে পারে সেই সাপুড়ে বেশি পয়েন্ট পাবেন।
শৈলকুপা থেকে আসা আরেক অংশগ্রহণকারী সাপুড়ে সবুজ এবং ঝিনাইদহের ওস্তাদ শহিদুল ইসলাম জানান, এটা আমাদের বাপ দাদার পৈত্রিক পেশা। আমার আগে আমার বাবা তার আগে তার বাবা সকলেই সাপ খেলা দেখিয়ে জীবন ধারন করতেন। আমরা বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সাপ নিয়ে ঘুরে বেড়াই। এ ধরনের আয়োজন হলে এলাকার সাপুড়েদের মিলন মেলায় অনেক ভাব বিনিময় ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপের খোঁজ খবর পাওয়া যায় বলে জানান বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাপুড়েরা।
ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার জানান, কালের বিবর্তনে লোকাচারের অনেক কিছুই এখন হারিয়ে গেছে। কিন্তু ঝাপাং গানের কোনও হেরফের হয়নি। সেই মধ্যযুগ হয়ে একবিংশ শতাব্দীর মানুষের কাছে এখনও সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে এটি। বর্তমান প্রজন্মের কাছে সাপ খেলার হারানো ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
/এআর/