আন্দোলনে লুট হওয়া অস্ত্র দস্যুদের কাছে পাওয়া যায়নি: র‍্যাব ডিজি

র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, ‘আত্মসমর্পণ করা সুন্দরবনের ৫৯ দস্যুর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ৫৯ আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ২৪ এর আন্দোলনে পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া কোনও অস্ত্র নেই। পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চলছে। তাই এ বিষয়ে সবার সহায়তা প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। সঠিক তথ্য প্রদানে পুরস্কার রয়েছে। আর তথ্য প্রদানকারীর বিষয়ও গোপন থাকবে। খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা এ বিষয়ে নির্দেশনা পেয়েছি।’

সুন্দরবনের পাঁচটি বাহিনীর ৫৯ জন দস্যুর আত্মসমর্পণ বিষয়ে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) র‍্যাব-৬ এর খুলনার সদরদফতরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় র‍্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত রাখতে র‍্যাবের বিশেষ অভিযান ‘‘অপারেশন রি-স্টোর পিস ইন সুন্দরবন’’-এর আওতায় সক্রিয় পাঁচটি দস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। অভিযানে গত তিন দিনে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থান থেকে ৫৯টি অস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও সাতটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি শর্টগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান ও একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল।’

তিনি বলেন, ‘দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ সুন্দরবন নিশ্চিত করতে গত ২ মার্চ থেকে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। র‍্যাব, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ আগস্ট সুন্দরবনে সক্রিয় পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্য র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬, আনারুল বাহিনীর ১৩, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫, আফতাব বাহিনীর ৮ ও মিজান বাহিনীর ৭ জন সদস্য রয়েছেন। আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘সুন্দরবনে আরও চার থেকে পাঁচটি দস্যু গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও র‍্যাব কাজ করছে। যারা আত্মসমর্পণ না করে দস্যুতা চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখা, বনজীবীদের নিরাপত্তা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘‘জিরো টলারেন্স’’ নীতি অব্যাহত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘ইতিপূর্বে ৩২৮ দস্যু আত্মসমর্পণ করেছিল। তার মধ্যে ৩০ জন আবারও দস্যুতায় ফিরে আসে। তারাও আত্মসমর্পণ করছে। এই ৫৯ জনের মধ্যে আগে আত্মসমর্পণ করা ৮ জন রয়েছে। এবার আত্মসমর্পণ করা দস্যু বনে ফিরবে না। সেভাবেই কাজ চলছে। যারা এবার আত্মসমর্পণ করবে না তাদের জন্য রয়েছে কঠিন পরিস্থিতি।’

আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে মামলা, হামলা, নির্যাতনের শিকার হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেয়ে আত্মসমর্পণ করা লোকজন আবারও দস্যুতায় ফেরে। আগামীতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা সবাই মিলেই দেখা হবে।’