খুলনায় অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের করা মামলায় সোনালী ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তাসহ সাত জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেকেই ৯২ কোটি ৬৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৫২ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তাদের প্রত্যেকেই আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মুহা. আদীব আলী এ রায় দেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী মো. ইয়াসীন আলী। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন বাদে বাকিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দৌলতপুর সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখার সাবেক গোডাউন কিপার মো. মতিয়ার রহমান, একই ব্যাংকের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক মানিক চন্দ্র মন্ডল (পলাতক), সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. রুহুল আমিন, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম, সাবেক অফিসার অজিত কুমার সরকার ও দৌলতপুর থানার ডিসি রোডের মেসার্স ইস্টার্ন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সনজিৎ কুমার দাস (পলাতক)।
আদালত ও দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেসার্স ইস্টার্ন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সনজিৎ কুমার দাস পাট কেনার জন্য সোনালী ব্যাংক থেকে ৪৯ কোটি ৬২ লাখ ১৪ হাজার ২৩৭ টাকা ঋণ নেন। পরে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ওসব কর্মকর্তার যোগসাজশে ঋণের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়, যা সুদে-আসলে দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৬৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৫২ টাকা।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন ২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মামলা করেন। তদন্ত শেষে তিনিই ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত সাত আসামিকেই দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন। মামলার দুই আসামি সনজিৎ কুমার দাস ও মানিক চন্দ্র মন্ডল পলাতক রয়েছেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর আরজিনা সুলতানা সাথী জানান, সোনালী ব্যাংকের খুলনার দৌলতপুর করপোরেট শাখা থেকে ঋণ নিয়ে পাট না কিনে আত্মসাৎ করার দায়ে দুদক বাদী হয়ে সাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। মামলায় ৯২ কোটি ৬৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৫২ টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা করা হয়। সোনালী ব্যাংকের দৌলতপুর করপোরেট শাখায় দায়িত্ব পালনকালে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ব্যাংকের ওই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় মামলার পর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আজ রায় ঘোষণা করেন বিচারক।