আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো যুবসমাজ। প্রচলিত শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার যে স্কিল মিসম্যাচ রয়েছে, তা দূর করে বাজারমুখী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে।’ শনিবার বিকালে যশোর পিটিআই মিলনায়তনে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) আয়োজিত চাকরি মেলা ও ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকের এই চাকরি মেলা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে একটি কার্যকর সেতু হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতাকে কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রান্তিক মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির জন্য কৃষককার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতাসহ বিভিন্ন উদ্দ্যোগ নিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ২৫০০ টাকা যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলে ২-৩ বছরের মধ্যে একটি পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘কোনও মানুষ যেন আইনি সহায়তার বাইরে না থাকে; এই ব্যবস্থা সরকার নিচ্ছে। যেসব এমএফআই আইনি সহায়তা নিয়ে কাজ করছে তাদের সঙ্গে সরকার এমওইউ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এর আগে সকালে চাকরি মেলা উদ্বোধন করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির নির্বাহী পরিচালক নূরে আলম মেহেদী, পরিচালক আবদুল মান্নান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, আরআরএফের প্রধান নির্বাহী ফিলিপ বিশ্বাস, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা আক্তার, আর্স বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আলম প্রমুখ।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাকরি মেলায় উপচে পড়া ভিড়। ১০ হাজার চাকরিপ্রার্থী জড়ো হন। মেলায় চাকরিপ্রত্যাশীদের ভিড় সামলাতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ। একপর্যায়ে ১০ হাজার চাকরিপ্রার্থী সমবেত হন।
আয়োজকরা জানান, চাকরি মেলায় ৩৬টি ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অংশ নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য ১০ হাজার নারী-পুরুষের কাছ থেকে প্রায় ৩৩ হাজার সিভি পাওয়া গেছে। মেলায় সরাসরি সিভি বাছাই ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এক হাজার ১১৫ জনকে ঋণ কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষক, শাখা ব্যবস্থাপকসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মেলায় সংগৃহীত বাকি সিভি থেকে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও তিন হাজার জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।