ম্যানেজারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

খুলনায় বেসরকারি ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিপুল টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

খুলনাগ্রাহকদের প্রায় ৪০ লাখ টাকা ‘আত্মসাতের’ পর প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে নিয়েছে খুলনার ফুলতলা উপজেলায় অবস্থিত দি ঢাকা আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানের জোনাল ম্যানেজার আনিসুর রহমান রয়েছেন আত্মগোপনে। এ অবস্থায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আদালত থেকে আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অন্য গ্রাহকরা পাওনা আদায়ের জন্য প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
প্রতিষ্ঠানটির কাছে গ্রাহকদের পাওনার পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ টাকা। গ্রাহকরা টাকা আদায়ের জন্য এখন পুলিশসহ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে শুরু করেন। এ অবস্থায় পাওনা ১৪ লাখ টাকা আদায়ের জন্য ফুলতলা বাজারের বাসিন্দা ও নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোমিনুল ইসলাম রফিক গত বছরের ১০ ডিসেম্বর খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (নং-সি.আর-১৬৯/১৫) করেন। ওই মামলায় আদালত সম্প্রতি আসামি মো. আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আগামী ৫ মে মামলার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।

মামলার বাদী মোমিনুল ইসলাম রফিক জানান, তিনি চাকরি থেকে অবসরের পর পেনশনের টাকা ঢাকা আরবার কো-অপারেটিভে রেখেছিলেন। এখন লভ্যাংশতো দূরের কথা আসল টাকাই ফেরত পাচ্ছেন না।  

দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামে আসামি আনিসুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার বাবা আইয়ুব আলী জানান, আনিসুর অনেক দিন ধরেই বাড়িতে আসে না। তার মোবাইল নম্বর চাইলে পরিবারের সদস্যরা মোবাইল নম্বর নেই বলে জানান।

আরও পড়ুন: ‘কোনও কিছুই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনকে প্রভাবিত করবে না’

গ্রাহকদের অভিযোগে জানা গেছে, দি ঢাকা আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ফুলতলা উপজেলার জামিরা সড়কে অফিস চালু করে। প্রতিষ্ঠানের জোনাল ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে মো. আনিসুর রহমান। প্রতিষ্ঠানটি লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে ফুলতলা, বেজেরডাঙ্গা, শিরোমনি ও ফুলবাড়িগেট এলাকার মানুষের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে। প্রথমদিকে গ্রাহকদের ঠিকমতো লভ্যাংশ দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে লভ্যাংশ দেওয়া নিয়ে শুরু হয় টালবাহানা। এরপর ওই বছরের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানের অফিস গুটিয়ে ফেলা হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আত্মগোপন করেন।

/এইচকে/