খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশের মধ্যে নগরীর কাশেম নগর সড়কে আসাদুজ্জামান জনি (২৭) নামে এক যুবককে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নগরীতে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক পুলিশ পরিদর্শক গুরুতর আহত হওয়ার পর রাতে একা চলাচল না করতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছিল জেলা পুলিশ। শুক্রবার রাতে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক দাফতরিক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরদিন বিকালে নগরীর সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা জনিকে গুলির ঘটনা ঘটলো। আহত জনি কাশেম নগর এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি বটিয়াঘাটায় জিএমআই গ্যাস কোম্পানিতে অপারেটর হিসেবে কাজ করেন। চিকিৎসক জানান, আহত জনি এখন আশঙ্কামুক্ত।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জনি জানান, বিকালে তিনি বাড়ির সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কালো রঙের একটি মোটরসাইকেলযোগে দুই ব্যক্তি বাড়ির সামনে আসে। তাদের মুখে মাস্ক পরা ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা মোটরসাইকেল থেকে নেমে তাকে লক্ষ্য করে এগিয়ে আসে। এ সময় জনি দৌড় দিলে তারা গুলি ছোড়ে দ্রুত চলে যায়। গুলিটি জনির কোমরের ডান পাশে লাগে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, ‘কাশেম নগরে জনি গুলিবিদ্ধ হন। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা এখনও জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’
এর আগে পুলিশের নির্দেশনাপত্রে বলা হয়েছে, চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চলছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষ অভিযানসহ অন্যান্য দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হলো। এ বিষয়ে ইউনিট ইনচার্জদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও থানায় পাঠানো হয়েছে। খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।