খুলনায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা এবং সুধী সমাবেশের দিনেও জেলায় পৃথক তিনটি স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং একটি ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। আইজিপির সফরের দিনে এমন ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও জননিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সারাদিন ও রাতে খুলনা মহানগরী ও জেলার তেরখাদা উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।
যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ
শনিবার বেলা ১১টার দিকে খুলনার তেরখাদা উপজেলার সেনেরবাজার-মধুপুর সড়কের পারহাজীগ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো. রামীম বিশ্বাস (৩২) নামের এক যুবদল নেতা গুরুতর আহত হন। তিনি ৬ নম্বর মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি। পুলিশ জানায়, রামীম একটি ভ্যানে অবস্থান করার সময় মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তার পাঁজরে গুলি লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
মুদি দোকানদারকে গুলি
এরপর শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে খুলনা থানাধীন দক্ষিণ টুটপাড়া ২ নম্বর ক্রস রোডের গাছতলা মন্দিরের সামনে মুদি দোকানে বসে থাকা অবস্থায় ধনঞ্জয় কুন্ডু ওরফে আকাশ কুন্ডু (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর পেটে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যায় একটি মোটরসাইকেলে দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি এসে তাকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ক্লিনিকে হামলা ও ফাঁকা গুলি
এসবের পাশাপাশি শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে খুলনা মহানগরীর বাবুখান রোডের সন্ধানী ক্লিনিকের সামনে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করে সন্ত্রাসীরা। পরে তারা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে দুটি চেম্বারে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। জনবহুল এলাকায় এমন আকস্মিক হামলায় চিকিৎসক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
শনিবার খুলনার বয়রা পুলিশ লাইনে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিং-বিষয়ক সুধী সমাবেশে অংশ নেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের চ্যালেঞ্জ, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমানো এবং কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে চলমান অভিযানের কথা তুলে ধরেন। সন্ত্রাস দমনে কঠোরতার ঘোষণা করেন।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো লোকমান হোসেন বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা ক্লিনিকের সামনে ফাঁকা গুলি করে এবং ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করে। তবে কেন কী কারণে এ ঘটনা ঘটলো ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে মুখ খুলছে না।’
তিনি বলেন, ‘টুটপাড়ায় মুদি দোকানদারকে গুলির ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইজিপি অনুষ্ঠান শেষে দুপুরেই খুলনা ত্যাগ করেছেন। খুলনার এমন সন্ত্রাসীমুলক ঘটনা ধারাবাহিকভাবে চলছে। আইজিপির খুলনা পরিদর্শন ও ঘোষণার সাথে সন্ত্রাসীমুলক ঘটনা বৃদ্ধির কোনও বিষয় নেই।’