গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন: জামায়াত আমির

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাটের কাটাখালীতে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই লংমার্চ ক্ষমতা দখলের আন্দোলন নয়, বরং জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। সাধারণ মানুষের দাবি ও অধিকার আদায়ে জনমত গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

এর আগে লংমার্চ ঘিরে সকাল থেকেই বাগেরহাটের কাটাখালী মোড় এলাকায় জড়ো হতে থাকেন ১১ দলীয় জোটের হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট-বড় মিছিল নিয়ে তারা সেখানে সমবেত হন। বাগেরহাট জেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য দেন।

লংমার্চের কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানাতে কাটাখালী মোড়ে অস্থায়ী সভামঞ্চ ও অভ্যর্থনা বুথ তৈরি করা হয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকায় সাজানো হয় পুরো এলাকা। অন্যদিকে খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের ফকিরহাট এলাকায় লংমার্চের গাড়িবহরকে স্বাগত জানাতে সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান নারী কর্মীরা।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান কাটাখালীতে সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। পরে লংমার্চটি পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করে।

১১ দলীয় জোটের নেতারা জানান, বাগেরহাট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও পর্যটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। মোংলা বন্দর ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, খুলনার সঙ্গে বাগেরহাটের যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষক ও মৎস্যজীবীদের ন্যায্য অধিকার এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের বিষয়গুলো কাটাখালীর পথসভায় তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে লংমার্চ ও পথসভাকে কেন্দ্র করে কাটাখালী ও খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের বিভিন্ন সংযোগস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন ট্রাফিক পুলিশ ও জামায়াতের স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা।