নিজ দোকানে বসে ছিলেন তাঁতী দল নেতা, কুপিয়ে হত্যা করে চলে গেলো দুর্বৃত্তরা

খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে তার নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হিল ক্যানটিনে’ কুপিয়ে হত্যা করা হয়। 

নিহত হুমায়ুন কবির (৪৫) ওই এলাকার সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে। তিনি রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজ বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন কবির তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে চলে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খুলনা মহানগর তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবু সাঈদ শেখ বলেন, ‘হুমায়ুন কবির খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। কী নিয়ে বিরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’

খুলনা মহানগর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিল্টন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘নিহত সৈয়দ হুমায়ুন কবির মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।’

স্থানীয় লোকজন জানান, হুমায়ুন কবির রায়মহল বড় মসজিদের পেছনে ‘ইল ক্যানটিন’ নামে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত দেশি অস্ত্র, রামদা ও চাপাতি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করার পাশাপাশি বুকে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এই হত্যার জন্য স্থানীয় ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন স্বজনরা। হাসপাতালে উপস্থিত নিহতের ভাতিজা সৈয়দ দিদারুল আলম বিপ্লব বলেন, ‘নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেনের সঙ্গে দেনা-পাওনার বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আরাফাত হোসেনের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে আমার চাচাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

নিহত হুমায়ুন কবির বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেছিলেন। আগামী কেসিসির নির্বাচনে একই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

কেএমপির খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ শাহজাহান আলী বলেন, ‘ঘটনাটি খালিশপুর ও আড়ংঘাটা থানার সীমান্তবর্তী এলাকা হলেও ঘটনাস্থল আড়ংঘাটা থানা এলাকায় ঘটেছে। ফলে আড়ংঘাটা থানা পুলিশ এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেবে।’

আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলিমুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’