এবার বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের দুই মামলায় টিপুকে গ্রেফতার দেখালো পুলিশ

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সাবেক প্যানেল মেয়র এবং সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী আকবর টিপুকে নাশকতার দুই মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক ইব্রাহীম খলিল মুহিম এ আদেশ দেন।

পুলিশ জানায়, নাশকতার দুই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আলী আকবর টিপুকে খুলনার আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন টিপু। গত ১০ অক্টোবর ঢাকার আদাবর থানা এলাকায় একটি হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেফতার করা হয়। এরপর খুলনার খালিশপুর থানায় নাশকতার দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো। দুপুর ১২টার দিকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

পুলিশ বলছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট খালিশপুর থানা এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ওই বছরের ৩০ আগস্ট বিএনপি নেতা শাহিনুল ইসলাম পাখি বাদী হয়ে নাশকতা ও ভাঙচুরের দুটি মামলাটি করেছিলেন। আলী আকবর টিপু কেসিসির ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং প্যানেল মেয়র-২ ছিলেন। তিনি খুলনার স্থানীয় আওয়ামী রাজনীতিতে বেশ প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘গত ১০ অক্টোবর বিকালে ঢাকা মহানগর ডিবির বিশেষ টিম খুলনায় এসে টিপুকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে যায়। ওই দিন ঢাকার আদাবর থানা এলাকায় একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। আজ খুলনা আদালতে এনে খালিশপুর থানায় করা দুটি নাশকতার মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। দুই মামলার শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।’

খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সৈয়দ শাহজাহান আলী বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আমাদের থানায় করা নাশকতার দুই মামলায় টিপুকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।’

এ ছাড়া খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানাও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন বলেন, ‘খুলনা সদর থানায় আলী আকবর টিপুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে করা ভাঙচুরের একটি মামলা রয়েছে আমাদের থানায়। তবে ওই মামলায় তাকে এখনও গ্রেফতার দেখানো হয়নি।’

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘টিপুর বিরুদ্ধে আমাদের থানায় একটি ভাঙচুরের মামলা আছে। ওই মামলায় আদালতে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আর কোনও মামলা নেই।’