এবার খুলনায় বাসা থেকে মেয়ের জন্য খাবার কিনতে বের হয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন রূপসা উপজেলা শিক্ষা অফিসের হিসাবরক্ষক মো. মশিউর রহমান (৫৯)।
রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর থানার মিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ মশিউর রহমান রূপসা উপজেলা শিক্ষা অফিসে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত। নগরীর মিয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করেন তিনি। আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ মশিয়ার রহমান জানান, তিনি রূপসা উপজেলা শিক্ষা অফিসের হিসাবরক্ষক। অফিস শেষে রূপসা থেকে মিয়াপাড়ার বাসায় ফেরেন। এরপর মেয়ের আবদার মেটাতে খাবার কিনতে বের হন। বাসা থেকে বের হয়ে মিয়াপাড়া থেকে পিটিআই মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। মিয়াপাড়া বড় মসজিদের সামনে হাসানের চায়ের দোকান পর্যন্ত পৌঁছান। এ সময়ে একটি গুলি এসে তার বাম পাঁজরের নিচে লাগে। গুলিটি চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। পরে তাকে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন।
তিনি বলেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করি। আমাকে কেন গুলি করা হবে। হয়তো গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আমার গায়ে লেগেছে। টার্গেটে অন্য কেউ হয়তো সেখানে ছিলেন। ঘটনা যাই হোক, এই শহরে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের নিরাপত্তা নেই। প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা জীবনের নিরাপত্তা চাই।’
এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, ‘শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাকে কারা কী উদ্দেশ্যে গুলি করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।’
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মহানগরীতে ৩৮ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি জেলার নয়টি থানা এলাকায় ঘটেছে আরও ৩৯ হত্যাকাণ্ড। সবমিলিয়ে ৭৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে জেলায়। এতে বোঝা যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।
পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ৭১ জন নিহত হয়েছেন। হিসাবে প্রতি মাসে সাতজনের বেশি। এসব ঘটনায় ৬৯টি হত্যা মামলা হয়েছে। আর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে খুনের ঘটনা ঘটেছে ছয়টি। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ড ৭৭টিতে পৌঁছেছে। আইনশৃঙ্খলার এই অবনতি রোধে পুলিশ ও প্রশাসন তল্লাশি এবং অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালালেও হত্যাকাণ্ড থামানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।