নাতনিকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করে প্রাণ হারালেন নানা

কুষ্টিয়ানাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দুর্বৃত্তদের হাতে আহত মিজানুর রহমানও (৬২) মারা গেছেন। বুধবার ভোরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে সোমবার রাতে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন মিজানুরের বড় ভাই মজিবর রহমান।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন খন্দকার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান ও তার ছোট ভাই মিজানুর রহমান এশার নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় দুর্বৃত্তরা তাদের কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মজিবর রহমান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মিজানুর রহমানকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া নাতনিকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল বখাটে আরিফুল ইসলাম আরিফ। বারবার সতর্ক করেও কোনও লাভ না হওয়ায় সোমবার আরিফের বিরুদ্ধে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান। পরে পুলিশ আরিফকে ধরে নিয়ে গেলেও ক্ষমতাসীনদের চাপে সমঝোতা করতে বাধ্য হন মজিবর রহমান।

পরিবারের অভিযোগ, ছাড়া পেয়েই মজিবর ও মিজানুরকে হত্যার পরিকল্পনা করে আরিফ। সোমবার রাতে এশার নামাজ শেষে দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মজিবর। পথে আরিফের বাড়ির সামনে পৌঁছানো মাত্রই তাদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এক ভাই দৌড়ে পালিয়ে গেলেও মজিবর ও মিজানুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায় দুর্বৃত্তরা।

ভেড়ামারা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন খন্দকার জানান, এ ঘটনায় মঙ্গলবার আরিফসহ আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আরিফ ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে। পুলিশের দাবি, তারা ঘটনায় জড়িতদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করেছে।

 আরও পড়ুন:

গাজীপুর৫০০ টাকার জন্য খুন!

/বিটি/এসটি/