চিকিৎসকের মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট: মামলার বাদীকে হুমকির অভিযোগ

Sherpur Dr. strik pic 02ভুল চিকিৎসার অভিযোগে শেরপুরে গ্রেফতারকৃত চিকিৎসক শরীফুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), শেরপুর জেলা শাখা। এ  ঘটনায় চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে।

অন্যদিকে, মামলা তুলে নিতে সরকারদলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিকসহ অন্য নেতারা নানা হুমকি দিচ্ছেন বলে শেরপুর প্রেসক্লাবে শুক্রবার দুপুরে সম্মেলন করে অভিযোগ জানিয়েছেন মামলার বাদী সোলায়মান মিয়া।

তবে এ ব্যাপারে হুইপ আতিউর রহমান আতিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় বাদীপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়ে আমার কাছে আসলে আমি চিকিৎসা খরচ বাবদ ৮ লাখ টাকায় আপোস করে দেই।কিন্তু বাদীপক্ষ তা না মেনে আমার প্রতি এ ধরনের অভিযোগ তুলছে, যা সত্য নয়। হুমকি-ধামকি দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

এদিকে,  ২৬ মে বৃহস্পতিবার রাতে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বিএমএর এক জরুরি সভায় অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএমএ’র সভাপতি ডা.এম এ বারেক। এতে শেরপুরের সিভিল সার্জন মো.আনোয়ার হোসেন, বিএমএর সাবেক সভাপতি এটিএম মামুন জোসসহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

 বিএমএর সাবেক সভাপতি মামুন জোস বলেন, চিকিৎসক শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটির বাদীর সঙ্গে সামাজিকভাবে আসামিপক্ষের আপস করার কথা হয়েছে। মামলার বাদীকে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারপরেও তিনি (শরীফুল) জামিন না পাওয়ায় চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

 প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা শহরের শান ক্লিনিকে চিকিৎসক শরীফুল ইসলামের কাছে স্তনের চিকিৎসার জন্য যান এক গৃহবধূ। এসময় চিকিৎসক তার স্তনে টিউমার হয়েছে বলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে ময়মনসিংহের সেহরা এলাকার কুণ্ডু প্যাথলজিতে পাঠান। সেখানে পরীক্ষায় স্তনে টিউমার চিহ্নিত করে তাতে ক্যানসার রয়েছে বলে রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে গৃহবধূকে শাহবাগের মডিউল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ১৫ নভেম্বর তার বাম স্তন কেটে ফেলেন শরীফুল ইসলাম ।

 এরপর প্রথমে ধানমন্ডির আনোয়ারা মেডিক্যাল সার্ভিসেস ও ঢাকা মেডিক্যালে পরীক্ষা   করানো হলে উভয় রিপোর্টেই স্তনে কোনও ক্যান্সার নেই বলে জানা যায়। এ ঘটনায় গত বছরের  ২৯ ডিসেম্বর শেরপুর সিআর আমলি আদালতে দুই চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে কর্মরত ডা.শরীফুল ইসলাম শরীফ ও ময়মনসিংহের কুণ্ডু প্যাথলজির মালিক অধ্যাপক ডা. কে.কে. কুণ্ডুকে আসামি করে একটি নালিশি মামলা করেন গৃহবধূর স্বামী সোলায়মান মিয়া।

 এ ঘটনায় শেরপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ চলতি বছরের  ২০ মে শুক্রবার জেলা শহরের নারায়ণপুর এলাকার মুন্নি ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে শরীফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। শরীফুল ইসলাম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের পরামর্শক সার্জন। বর্তমানে তিনি জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন।

 আরও পড়ুন:

জমজমের পানি খেয়ে ওষুধের কাজ চালাচ্ছি: সেলিম ওসমান

/এআর/আপ-বিটি/