পিডিবি কর্মকর্তার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ৯ লাখ টাকা!

পিডিবি কর্মকর্তার বকেয় বিদ্যুৎবিলময়মনসিংহে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলীর আবাসস্থল উপজেলা ডাক বাংলোর বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ৯ লাখ ৩ হাজার ৭১৯ টাকা। এত পরিমাণ বিল বকেয়া থাকার পরও প্রকৌশলী এজেড এম আনোয়ারুজ্জামান পাচ্ছেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। অথচ বিল বকেয়া থাকায় উপজেলার পিডিবির গ্রাহকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হচ্ছে। এসব মামলার বাদীও হচ্ছেন পিডিবির গফরগাঁও বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের প্রকৌশলীরা। এই ঘটনা ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের।

জানা যায়, গফরগাঁও বিদ্যুৎ বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এজেড এম আনোয়ারুজ্জামান বন্ধের দিন বাদে পুরো মাস ডাক বাংলোতে বসবাস থাকলেও কাগজপত্রে দেখানো হচ্ছে ১৫ দিনের কম। ফলে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব থেকে। তিনি গত ১ বছর ৩ মাস ধরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর ২নং কক্ষ নিয়মিত ব্যবহার করছেন।

উপজেলা ডাক বাংলোর অফিস সহায়ক মো. ইসমাইল জানান, বিদ্যুতের ওই প্রকৌশলী একটি কক্ষের প্রতিদিনের ভাড়া দিয়ে নিয়মিত বসবাস করেন। প্রায় সময় ওই প্রকৌশলী ডাক বাংলোর ভিআইপি কক্ষ ব্যবহার করেন বলে এমন অভিযোগ রয়েছে।

জেলা পরিষদের আবাসন থেকে জানা গেছে, গত মে মাসে  আনোয়ারুজ্জামান ১৩ দিন ডাক বাংলোয় বসবাস করেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রতিদিন ৭৫ টাকা হারে ৯৭৫ টাকা জেলা পরিষদকে পরিশোধও করেন। কিন্তু গত মে মাস পুরোটাই ডাক বাংলোতে তিনি বসবাস করেন বলে জানা গেছে।

পিডিবি কর্মকর্তার ডাকবাংলোর রিসিট

গফরগাঁও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী আনোয়ারুজ্জামান নিয়মিত সরকারি বেতনের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন।

পৌর শহরের ষোলহাসিয়া এলাকার আতিকুজ্জামান জানান, ৬০ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় বিদ্যুতে অফিসের এক প্রকৌশলী বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

প্রকৌশলী আনোয়ারুজ্জামানের বিল বকেয়া বিষয়ে গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিদ্ধার্থ শংকর কুণ্ডু, বিষয়টি তার জানা নেই।

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আবুল হাসনাত লোকমান মুঠোফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি এখানে নতুন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

এদিকে পিডিবির ময়মনসিংহের প্রধান প্রকৌশলী মো. ফকরুজ্জামান মুঠোফোনে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গফরগাঁও বিদ্যুৎ বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এজেড এম আনোয়ারুজ্জামান বলেন, আমি নিয়মিত সরকারি ডাক বাংলোতে বসবাস করি। বিদ্যুৎ বকেয়ার বিষয়ে তাগিদ দিলেও ডাক বাংলোর গ্রাহক জেলা পরিষদের প্রকৌশলী তা পরিশোধ করছেন না।  তবে সরকারি বাড়ি ভাড়া পেলেও ডাক বাংলোতে বসবাস করা ও ভিআইপি কক্ষ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। 

আরও পড়ুন:

‘আমরা শঙ্কিত’

/এআর/এনএস/এমএনএইচ/