গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর দেশব্যাপী নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিখোঁজদের সন্ধান করতে পরিবার ও বিভিন্ন স্থান থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় নেত্রকোনায় তিনজন নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। গত দেড় বছর ধরে ২ মাদ্রাসা ছাত্রসহ তিনজন নিখোঁজ রয়েছে। তবে এই তিনজনের সন্ধান বের করতে পুলিশ খুব একটা তৎপর নয় বলে অভিযোগ করেছে তাদের পরিবার।
গত বছর ২৮ ডিসেম্বর শহরের কোড়পার এলাকার ভুঁইয়া বাড়ি মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত সার্জেন্ট আব্দুস ছাত্তারের ছেলে আব্দুল্লাহ আল রাফি (১৩)। নিখোঁজের দুদিন পর ঢাকা থেকে দুবৃর্ত্তরা ফোন করে জানায়, রাফির একটি কিডনি কারা যেন নিয়ে গেছে। বর্তমানের রাফির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে কয়েক হাজার টাকাও নেয়। বিষয়টি সেসময় পুলিশকে জানালেও এখন পর্যন্ত কোনও সুরাহাই করতে পারেনি পুলিশ।
রাফির চাচাতো ভাই মোমেন বলেন, ‘রাফি নিখোঁজের পর আমরা থানায় জিডি করেছি এবং দুর্বৃত্তরা যে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে সে বিষয়েও পুলিশকে বারবার জানিয়েছি কিন্তু পুলিশ কিছুই করেনি।’
সন্তানের খোঁজ না পেয়ে আতঙ্কে রয়েছেন রাফির মা ঝরনা বেগম। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি, ছেলেকে ফেরত চাই।
ভুঁইয়াবাড়ি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাই বলেন, রাফির সঙ্গে জঙ্গিদের কোনও সম্পৃক্ততা ছিল না। হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে তিনি জিনের আছর বলে অভিহিত করেছেন।
এছাড়া জেলা শহরের নাগড়া মাদ্রাসা থেকে গত বছরের ১৫ মার্চ নিখোঁজ হয় গাজীপুরের আইয়ুব আলীর ছেলে আল আমিন (১৪)। একই বছরের ১২ এপ্রিল ওমান যাওয়ার জন্য ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে নিখোঁজ হন জেলার পূর্বধলা উপজেলার ধোবা-হোগলা গ্রামের ওয়াসিম মিয়া (২২)।
এ তিনজন নিখোঁজের পরপরই থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও তাদের উদ্ধারের ব্যাপারে পুলিশের কোনও তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন তাদের পরিবার।
তবে নিখোঁজদের উদ্ধারের জোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নিখোঁজদের অনুসন্ধান বের করতে পুলিশ, সিআইডিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । যত দ্রুত সম্ভব ঘটনাগুলোর সুরাহা করা হবে।’
আরও পড়ুন: ৫৯ বিলুপ্ত ছিটমহলে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কাজ শুরু
/এসটি/