চেতনা ফিরেছে সেই হাতিটির

উদ্ধার হওয়া ভারতীয় হাতি (ফাইল ছবি)জামালপুরের সরিষাবাড়িতে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় হাতিটির চেতনা ফিরেছে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটে হাতিটির চেতনা ফেরে।

উদ্ধারকারী দলের সদস্য ভেটেনারি সার্জন ডা. সাঈদ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটে হাতিটি চেতনা ফিরে পেয়ে স্বাভাবিক হয়। শুক্রবার ভোরের দিকে হাতিটি পায়ের রশি ছিঁড়ে পাশের একটি ডোবায় পড়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় ফের হাতিটিকে উদ্ধার করে শেকল ও মোটা রশি দিয়ে বড় একটি আমগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন পানিতে থাকায় হাতিটির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ঘায়ের মতো হয়েছে। বৃহস্পতিবার হাতিটি উদ্ধারের পর থেকে তার শরীরে ১২টি স্যালাইন পুশ করা হয়। এছাড়া ঘায়ের চিকিৎসাও চলছে। হাতিটিকে আখ, কলাগাছ ও কলা খেতে দেওয়া হচ্ছে।

বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাতিটিকে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে নেওয়া হবে। তবে এটি স্থানান্তরে পাঁচ থেকে সাতদিন সময় লাগতে পারে। তারা জানান, সাফারী পার্ক থেকে দুটি পোষা হাতি এনে তাদের সহায়তায় বন্য হাতিটিকে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে সেখান থেকে ফ্রকলিফটের মাধ্যমে বড় ট্রাকে করে হাতিটিকে স্থানান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন ভারতীয় এই বন্য হাতিটি বন্যার পানিতে ভেসে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। প্রায় দেড়মাস যাবত এটি জামালপুর, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার চরাঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। হাতিটি উদ্ধারে গত ৪ আগস্ট ভারতীয় একটি বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে আসে। ৫ আগস্ট থেকে টানা তিনদিন তারা উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। কিন্ত কোনোভাবেই হাতিটিকে ডাঙ্গায় ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। পরে ৮ আগস্ট তারা দেশে ফিরে যান। পরে বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের কয়রা গ্রামে ট্রাঙ্কুলাইজার বন্দুক থেকে ডার্ট ছুড়ে অচেতন করা হয় হাতিটিকে। এ সময় হাতিটি পানিতে পড়ে যায়। এরপর পাঁচ টনের বেশি ওজনের হাতিটিকে জলাশয় থেকে টেনে তোলে কয়েকশ মানুষ।

আরও পড়ুন:

হাতিটি এখন বাংলাদেশের আতিথেয়তায় থাকুক চায় ভারত

/বিটি/