সোমবার ক্রেন এলে হাতিটিকে গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন সরিষাবাড়ী থানার বন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান।
হাতির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে এসেছেন চারজন মাহুত। চিকিৎসার জন্যে এসেছেন কক্সবাজারের ডুলাহাজরা সাফারি পার্কের একজন ভেটেরেনারি সার্জন।
ভেটেরেনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হাতিটিকে সকাল ১০টা, সাড়ে ১০টা. ১১টা ও ১২টায় চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে নিন্ত্রয়নে আনা হয়। জ্ঞান হারানোর পর সাগে ১২টার দিকে আবার দেওয়া হয় চেতনা ফিরে আসার ওষুধ। একইসঙ্গে চলছে অ্যান্টিবায়োটিক।
চারবার চেতনানাশক দেওয়ায় হাতির কোনও ক্ষতি হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সার্জন জানান, মাত্রা অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করায় কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নাই। তিনি আরও জানান, দিনের পর দিন জলো এলাকায় থাকার পরও লক্ষণীয় কোনো শারীরিক অসুস্থতা এর দেহে দেখা দেয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন ভারতীয় এই বন্য হাতিটি বন্যার পানিতে ভেসে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। প্রায় দেড়মাস যাবত এটি জামালপুর, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার চরাঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। হাতিটি উদ্ধারে গত ৪ আগস্ট ভারতীয় একটি বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে আসে। ৫ আগস্ট থেকে টানা তিনদিন তারা উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। কিন্ত কোনোভাবেই হাতিটিকে ডাঙ্গায় ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। পরে ৮ আগস্ট তারা দেশে ফিরে যান। পরে বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের কয়রা গ্রামে ট্রাঙ্কুলাইজার বন্দুক থেকে ডার্ট ছুড়ে অচেতন করা হয় হাতিটিকে। এ সময় হাতিটি পানিতে পড়ে যায়। এরপর পাঁচ টনের বেশি ওজনের হাতিটিকে জলাশয় থেকে টেনে তোলে কয়েকশ মানুষ।
/এইচকে/
পড়ুন: বঙ্গবাহাদুর