উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী উপজেলায় দুই কোটি ৯৪ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। চলতি বোরো মওসুমে উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের ২ হাজার ২৮০ হেক্টর ও যোগানিয়া ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়। গত ২২ এপ্রিল উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ও ভারি বর্ষণের কারণে মালিঝি ও চেল্লাখালী নদীর উপচে পড়া পানিতে এসব ফসল ডুবে যায়।
কৃষক আমর আলী জানান, হঠাৎ বন্যায় উপজেলার কোথাও কোথাও ধান একেবারেই হয়নি। যেখানে বন্যা হয়নি সেখানে ব্লাস্ট রোগ ধরেছে, আর যেখানে ধান স্বাভাবিক হয়েছে সেখানে ধানের ফলন হয়েছে অর্ধেকেরও কম।
কলসপাড় গ্রামের কৃষক রুমান জানান, অকাল বন্যায় তার ৪ একর জমির ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বছর তার চাল কিনে খেতে হবে। বারোমারী গ্রামের কৃষক সুরুজ্জামানও জানান একই কথা।
কালিনগর গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান বলেন, ‘এবার বোরো মওসুমে আমার আবাদকৃত ১২ বিঘা জমির ধান পাঁচদিন ধরে পানির নিচে থেকে পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। গরু মহিষের খাবারের জন্য খড় ধার করে অন্য এলাকা থেকে আনতে হচ্ছে। নিজেদের কী হবে ভেবে পাচ্ছি না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহাকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করতে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী সরকারিভাবে তাদের সহায়তা করা হবে।’
/এমও/আপ-এআর/