ওসি জানান, মানবপাচার আইনে মামলা দায়েরের পর বুধবার ময়মনসিংহের বিজ্ঞ আদালত বাবা-মা ও ওই কন্যা শিশুটির বাবা-মা শনাক্তকরণে ডিএনএ পরীক্ষা করানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়।
ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, থানার ইনসপেক্টর মুশফিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে মনোয়ার হোসেন, স্ত্রী পাপিয়া আক্তার ও কন্যা শিশুকে ঢাকার সিআইডি ডিএনএ ল্যাবে পাঠানো হলে বিকালে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। আগামী ১০ দিনের মধ্যে ডিএনএ প্রোফাইলিং পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে জানান তিনি।
নবজাতক ওই শিশুর বাবা মনোয়ার হোসেন মনু বলেন, ‘আমি এবং আমার স্ত্রীসহ ওই কন্যা নবজাতককে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার পর ওই কন্যার সঙ্গে আমাদের ডিএনএ মিলে গেলে আমরা ওই শিশু কন্যাকে সাদরে গ্রহণ করবো।’
হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘১০ থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছুটি দেওয়া ১৭৫ শিশুর বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও বদলে যাওয়া ছেলে শিশুর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে বাবা-মা ও কন্যা শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ফল হাতে আসলেই নবজাতক বদলের রহস্য উদঘাটন হবে।’
সদরের বাদেকল্পা গ্রামের মনোয়ার হোসেন মনুর স্ত্রী পাপিয়া গত ১০ ডিসেম্বর বিকালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনী লেবার ওয়ার্ডে সন্তান প্রসব করেন। এসময় বলা হয় জন্ম নেওয়া শিশুটি ছেলে। শ্বাসকষ্টসহ কান্না না করায় ওইদিনই নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় তাকে। সোমবার ১৮ ডিসেম্বর বিকালে ছুটি দেওয়ার সময় মেয়ে শিশুকে মায়ের কাছে তুলে দেওয়ায় ছেলে শিশুর দাবি করলে এই বিপত্তি দেখা দেয়। সোমবার রাতের এই ঘটনা নিয়ে ছেলে শিশুর দাবিদার স্বজনরা হাসপাতালের নবজাতকের ওয়ার্ড ও এই ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেনের প্রাইভেট চেম্বারের সামনে বিক্ষোভসহ ঘেরাও করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৯ ডিসেম্বর কোতোয়ালী মডেল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করে।
আরও পড়তে পারেন: ময়মনসিংহ মেডিক্যালে শিশু বদলের ঘটনায় মামলা