৮২ দিন নিখোঁজ ছিল নব্য জেএমবি’র আশফাক

আশফাকুর রহমানচট্টগ্রামের সদরঘাট থানার শুভপুর এলাকায় গ্রেনেডসহ গ্রেফতার হয় নব্য জেএমবি'র আত্মঘাতী ইউনিটের সদস্য আশফাকুর রহমান ওরফে আবু মাহের আল বাঙালি ওরফে রাসেল ওরফে সেলেবি তিতুস। গ্রেফতার হওয়ার আগে ৮২ দিন নিখোঁজ ছিল সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও আশফাকের কোনও হদিস পাচ্ছিলেন না ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের তার পরিবারের সদস্যরা। ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে গ্রেফতার হওয়ার পর তার খবর পান স্বজনরা। বাংলা ট্রিবিউনকে আশফাকের পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার আগে আশফাক কারও সঙ্গে তেমন একটা মিশতো না। নিয়মিত মাদ্রাসায়ও যেতো না। তবে প্রায়ই তার এক ‘হুজুর’ বন্ধু বাসায় আসতো।

জানা গেছে, আশফাকের ডাক নাম রিজভি। বাবা আনিসুর রহমান খান টাঙ্গাইলে খাদ্য অধিফতরে কর্মরত। মা রিনা নাসরিন খানম গফরগাঁওয়ের চরআলগী এলাকার চরমছলন্দ মুসলিম হাইস্কুলের শিক্ষিকা। গত ৯ অক্টোবর সকালে বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে ময়মনসিংহ পৌরসভার সানকিপাড়ার বাসায় তালা দিয়ে বের হয়ে যায় আশফাক। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে বাবা আনিসুর রহমান খান ১৪ অক্টোবর কোতোয়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুই ভাইয়ের মধ্যে আশফাক বড়। জন্মসনদ অনুযায়ী তার বয়স ১৭ বছর। ২০১২ সালে গফরগাঁও ইসলামিয়া সরকারি হাইস্কুল থেকে সে জেএসসি পাস করে। এরপর গফরগাঁও পুকুরিয়া দারুল হুদা মহিয়ুস সুন্নাহ কওমি মাদ্রাসায় প্রথম জামাতে ভর্তি হয়। সেখানে প্রায় তিন বছর লেখাপড়া করে সে ঢাকার মোহাম্মদপুর জামিয়া রহমানিয়া কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। ওই মাদ্রাসা থেকে পরে সে ভর্তি হয় রাজধানীর ফরিদাবাদের একটি কওমি মাদ্রাসায়। পাশাপাশি সে গফরগাঁও জেএম ফাজিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ডে রেজিস্ট্রেশন করে। ২০১৮ সালে তার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

গফরগাঁও জেএম ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আতাউর রহমান জানান, ২০১৬ সালে আশফাকুর রহমান তার মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। সে নিয়মিত ক্লাশ করতো না। এই বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও সে ফরম পূরণ করেনি।ময়মনসিংহে আশফাকদের বাড়ি

গফরগাঁও পুকুরিয়া দারুল হুদা মহিয়ুস সুন্নাহ কওমি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফখরুল ইসলাম জানান, ২০১২ সালে আশফাক তার মাদ্রাসায় প্রথম জামাতে ভর্তি হয়। এখানে প্রায় তিন বছর লেখাপড়া করে সে ঢাকায় চলে যায়। এরপর আর তার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না। তবে ছাত্র হিসেবে আশফাক মেধাবী ছিল বলে তিনি জানান।

আশফাকদের বাড়ির ভাড়াটিয়া মাহবুবুর রহমান জানান, গত রোজার মাসের পুরো সময়টাই আশফাক বাসায় ছিল। আশফাককে ভদ্র ছেলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সে আশপাশের কারও সঙ্গে মিশতো না, মসজিদে নামাজ শেষে বাসাতেই সময় কাটাতো। তবে মাঝে মধ্যে একজন  হুজুর বন্ধু তার সঙ্গে দেখা করতে আসতো।’

আশফাকের মা স্কুল শিক্ষিকা রিনা নাসরিন খানম জানান, আশফাক দাখিল পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ছয় মাস আগে ঢাকার মাদ্রাসা থেকে চলে আসে। ময়মনসিংহের বাসায় দু'জন প্রাইভেট শিক্ষক তাকে পড়াতো। গত বছরের ৯ অক্টোবর সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে তার এক ভাড়াটিয়া ফোনে খবর দেয়, আশফাক বাসায় তালা লাগিয়ে চলে গেছে। পরে তার মোবাইলে ফোন করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর কয়েক দিন খুঁজেও তাকে না পেয়ে ১৪ অক্টোবর কোতোয়ালী মডেল থানায় জিডি করা হয়। আশফাক গ্রেনেডসহ পুলিশের কাছে ধরা পড়েছে এবং জেএমবিতে যোগদান করেছে- এই বিষয়টি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম জানান, আশফাকুর রহমান খান রিজভি নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডি (নম্বর ১১৭৯) করা হয়।

আরও পড়ুন- 

থানায় হামলার পরিকল্পনা করেছিল জেএমবি'র আত্মঘাতী দলের দু্ই সদস্য

গ্রেনেডসহ চট্টগ্রামে নব্য জেএমবির দুই সদস্য গ্রেফতার