২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল ময়মনসিংহ শহরের কালিবাড়ি রোডে আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল কাদিরের বাসা থেকে সাত জঙ্গিকে আটক করে ময়মনসিংহ পুলিশ। কালিবাড়ি রোডের বিশাল জায়গা জুড়ে একটি ডুপ্লেক্স ও একটি চারতলা ভবনসহ একাধিক বাসার মধ্যে একটি আধাপাকা টিনের বাসা থেকে ওই জঙ্গিদের আটক করা হয়। কোতোয়ালি মডেল থানায় এসব জঙ্গির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। বর্তমানে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।
এই ঘটনার কয়েক দিন পর বাসাটি থেকে ভাড়াটিয়াদের বের করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি আস্তানা হিসেবে পরিচিত বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়েছিল। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল কাদিরের প্রয়াত পুত্র সাদেক আনোয়ার পাপ্পুর স্ত্রী জোবেদা আনোয়ার কেয়া জঙ্গি আস্তানা হিসেবে চিহ্নিত এই বাড়িটির ইমেজ পাল্টাতে এতে গড়ে তোলেন ‘স্পন্দন পার্টি সেন্টার’ নামে একটি কমিউনিটি সেন্টার। বর্তমানে কমিউনিটি সেন্টারটি বাণিজ্যিক ভাবে ভাড়া দিচ্ছেন তিনি।
এদিকে,২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট ভালুকার হবিরবাড়ির কাশর গ্রামের আজিম উদ্দিনের বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে ঘরের ভেতর বোমা বিস্ফোরণে নব্য জেএমবি সদস্য নাটোর সদর উপজেলার তেলকুপি গ্রামের আবুল কালাম প্রামাণিকের ছেলে আলম প্রামাণিক (৩৫) মারা যায়। এসময় আটক করা হয় আলম প্রামাণিকের স্ত্রী পারভিন আক্তারকে (৩০)।
এসময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা বাড়ির মালিক আজিম উদ্দিনের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (৪০),ছেলে হাসান ও আরিফকে। এইস ঘটনায় ভালুকা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছেন।
আজিম উদ্দিনের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন জানান, ঘটনার ১৫ দিন আগে আলম প্রামাণিক তাদের বাড়ি ভাড়া নিয়ে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে থাকতে শুরু করে। ঘটনার দিন অভিযান চলাকালে আলম প্রামাণিক বোমার আঘাতে মারা যায়। বর্তমানে বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মাঝে মাঝে পুলিশ এসে খোঁজ খবর নিয়ে যাওয়ার কথা জানান ফাতেমা খাতুন।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জয়িতা শিল্পী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ময়মনসিংহে উদ্ধার হওয়া দু’টি ‘জঙ্গি আস্তানা’র বাড়িগুলো এখনও পুলিশের নজরদারিতে আছে। নতুন করে এই বাড়িগুলো কী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এ বিষয়ে বাড়ির মালিকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করা হয়।