গ্রামের বাড়িতে রোজিনার দাফন সম্পন্ন

স্বজনদের আহাজারিময়মনসিংহের ধোবাউড়ার ঘোষগাঁও ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের বাড়িতে রবিবার বাদ এশা রোজিনাকে দাফন করা হয়েছে। এর আগে ঘোষগাঁও কবরস্থান জামে মসজিদ মাঠে দুই দফা জানাজা হয়। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে আশপাশের গ্রামের সহস্রাধিক মুসল্লি এতে অংশ নেন।

রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে রোজিনার মৃতদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এক নজর রোজিনাকে দেখার জন্য দুপুরের পর থেকেই আশপাশের গ্রামের মানুষ ছুটে আসে। এসময় হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সংসারে উপার্জনক্ষম একমাত্র সদস্যকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন রোজিনার দিনমজুর বাবা রসুল মিয়া ও মা রাশেদা বেগম। কীভাবে তাদের সংসার চলবে এ নিয়ে চিন্তিত তারা। রসুল মিয়া জানান, তার সংসারে ১০ জনের খাবার যোগাতে হয়। তিনি দিনমজুরি করে যে টাকা উপার্জন করতেন তা দিয়ে সংসার চলতো না। রোজিনার পাঠানো টাকা দিয়ে সংসারের বেশিরভাগ খরচ চলতো। এখন কীভাবে তার এত বড় সংসার চলবে তাই ভেবেই দিশেহারা তিনি। রোজিনার মৃত্যুর জন্য দায়ী বাস চালকের শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

mymensingh-ruzina-pic-2ঘোষগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল হক জানান, রোজিনা ঢাকা থেকে যে টাকা পাঠাতো তা দিয়ে রসুল মিয়ার সংসারের খরচ চলতো। মেয়েকে হারিয়ে পরিবারটি বিপদে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই পরিবারটিকে সাধ্য মতো সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান। এছাড়া দায়ী বাস চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। 

গত ২০ এপ্রিল রাজধানীর বনানীতে রাস্তা পার হওয়ার সময় বিআরটিসি দ্বিতল বাসের চাপায় ডান পা হারান রোজিনা(১৮)। প্রথমে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে রোজিনা মারা যান।