বিলীনের পথে জামালপুরের বানার খাল

9806a8748d0e2667615e1e807328c24a-Jamalpurএকসময় জামালপুরের কৃষি বিল্পবের প্রধান অবলম্বন হিসেবে জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের বানার খালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। বর্তমানে খালটি দখল, ভরাট আর দূষণের কারনে বিলীন হতে চলেছে।
ঐতিহ্যবাহী বানার খালটি জামালপুর সদর উপজেলা থেকে টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রবাহিত ছিল। বর্তমানে অবৈধ দখল ও খননের অভাবে খালটির অস্তিত্ব এখন বিলীন হতে চলেছে। একসময় সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়সহ ধনবাড়ীর বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার কৃষক সেচ সুবিধা পেতেন এই খালের পানি থেকে। এই খালের পানির অবাধ ব্যবহারের কারণে গোটা অঞ্চলের অনাবাদী জমিও আবাদের আওতায় এসেছে। বর্তমানে খালটি মরে যাওয়ায় ডিপটিওবয়েল দিয়ে পানি উত্তোলন করে সেচ সুবিধা গ্রহনে কৃষি আবাদে খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি কমে যাচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর। খালের বিভিন্ন স্থানে ভরাটের মাধ্যমে দখল হয়ে যাওয়া পানিশূন্য খালটি দখলমুক্ত এবং পুণঃখননের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, ১৯৭৯-৮০ সালে স্বেচ্ছাশ্রম এবং দফায় দফায় কাবিখার চাল ও গমের বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে বানার খালটি খনন সম্পন্ন হয়। খালে সারা বছর পানি ধরে রাখতে শুষ্ক মৌসুমে বানার ব্রিজের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদে এক ডজন শক্তিশালী পাম্প বসিয়ে পানি সরবরাহ করা হতো। খাল খনন কর্মসূচির আওতায় জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনার বানারপাড় ব্রিজ এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ি উপজেলার সীমানা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খনন করা হয়।
জয়রামপুর এলাকার বাসিন্দা মজিবুর রহমান হামিদী জানান, খালটি সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতো। প্রায় এক যুগ বানার খালটি সচল থাকায় কৃষকরা স্বল্প খরচে ইরি, বোরো ধান ও গমসহ কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা ও মৎস্য চাষের সুযোগ পেয়ে আসছিল। ফলে খালের দুই পাড়ের হাজার হাজার একর জমি সেচ সুবিধার আওতায় এসেছিল। কিন্তু প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে খালটি দিনের পর দিন বেদখল হয়ে যাচ্ছে।
শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম আলম বলেন, ‘খালের বিভিন্ন স্থানে ভরাট করে বাড়িঘর, রাস্তাঘাটসহ নানা স্থাপনা গড়ে তুলেছে দখলদাররা। খালটি পুনরায় খনন হলে আমার ইউনিয়নসহ উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ৩০ হাজার কৃষক সেচ সুবিধাসহ মাছ চাষিদের আয়েরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খালটি অবৈধ দখলদার মুক্ত করতে জামালপুর সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছি। প্রতিবেদন পেলে আমরা ব্যবস্থা নেবো। তবে খালের মুখে কিছু ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে। এর জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা আমরা ভেবে দেখছি।’