কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সোমবার রাতে স্কুলছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের অভিযোগে মঙ্গলবার ভোরে র্যাব-১৪ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ওই ছাত্রীর প্রেমিক বাদশা মিয়াকে (২৫) আটক করেছে। সে পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দি ইউনিয়নের শালঙ্কা গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালেবের ছেলে। পরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তার আরও দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।
তারা হলো, একই গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে এরশাদ (২৫) ও মো. দুলাল মিয়ার ছেলে রুস্তম (২১)।
ধর্ষণের শিকার মেয়েটি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। এদিকে ধর্ষণের শিকার গুরুতর অসুস্থ ছাত্রীকে মঙ্গলবার ভোরে কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. রমজান মাহমুদ।
র্যাব সূত্র জানায়, মেয়েটির সঙ্গে বাদশা মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সোমবার সন্ধ্যায় ফোনে ঈদের কেনাকাটা করার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে সদর উপজেলার বিন্নাটি মোড়ে নিয়ে যায়। পরে বাদশাসহ তার সঙ্গীরা কৌশলে পাকুন্দিয়ার নারান্দি ইউনিয়নের ছোট আজলদি গ্রামের ঈদগাহের পাশে একটি কলাবাগানে নিয়ে মেয়েটিকে দলবেঁধে রাতভর ধর্ষণ করে। পরে ভোরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে মেয়েটি অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় পুলেরঘাট বাজারে যায়। সেখানে বাজারের এক পাহারাদার মেয়েটিকে উদ্ধার করে সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। এরপর তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
র্যাব-১৪ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক এম শোভন খান বলেন, অভিযোগ পেয়ে র্যাব বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মূলহোতা বাদশাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।
পাকুন্দিয়া থানার ওসি আজহারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে বাদশাসহ পাঁচজনকে আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
মামলার বাকি আসামিরা হলো নারান্দি ইউনিয়নের শালঙ্কা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে নাসিম (২২) ও ছোট আজলদি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মো. মামুন (৩০)।