ইসলামপুর যমুনার বাঁধে ব্যাপক ধস, আতঙ্কে এলাকাবাসী

 

01জামালপুরের ইসলামপুর যমুনার তীর সংরক্ষণ রক্ষা বাঁধে ব্যাপক ধস দেখা দিয়েছে। বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সিসি বক্ল বিছানো বাঁধের প্রায় ১০ মিটার ধসে নদীতে বিলীন হয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে উলিয়া বাজার, উলিয়া এ এম উচ্চ বিদ্যালয়, উলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাস্তাঘাট ও অসংখ্য ঘরবাড়ি। এতে করে আতঙ্কে রয়েছে সেখানকার এলাকাবাসী।

এছাড়া পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত বাঁশের পাইলিংও ভেঙে যাচ্ছে। সোমবার থেকে বাঁধে ব্যাপক ধস দেখা দিয়েছে। এ সংবাদ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জামালপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পদির্শন করে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে বাঁধের ভাঙন প্রতিরোধে সেখানে বালিভর্তি জিওব্যাগ ফেলতে শুরু করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, বর্তমান সরকারের আমলে যমুনার বাম তীর সংরক্ষণ ও ভাঙন রোধে দেওয়াগঞ্জ উপজেলার ফোটানী বাজার থেকে শুরু করে ইসলামপুর উপজেলার পার্থশী, কুলকান্দি ও চিনাডুলী ইউনিয়নের উলিয়া বাজার পর্যন্ত এবং সরিষাবাড়ী উপজেলা পিংনা পর্যন্ত তীঁর সংরক্ষণ কাজের একটি প্রকল্প গ্রহণ করে জামালপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রথম পর্যায়ে ৪৮৫ কোটি টাকা কাজটি শুরু করার পর পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি করে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত করা হয় তীর সংরক্ষণ বাঁধ।

উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র নামে খ্যাত ঐতিহ্যবাহী উলিয়া বাজার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, শত শত ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষার জন্য জিও টেক্সে বালি র্তি করে যমুনা নদীতে ফেলে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে। কংক্রিট বক্ল দিয়ে বাঁধের উপর অংশ ঢেকে বাঁধটি নির্মাণ করা হয।

এ বিষয়ে উলিয়া পাইলিং ঘাট ও বাজার এলাকার বাসিন্দারা জানান. বাঁধ নির্মাণের পর থেকে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থের জন্য বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বাঁধের ওপর রেখে তা বিক্রি করছে। ফলে সেখান থেকে বালুভর্তি ট্রাক্টর, ট্রাক, ও ভটভটিসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করায় বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ। এজন্য যমুনার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পানির প্রবল স্রোতে বাঁধের একাধিক স্থান ধসে গেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া বাঁধ ধসের ফলে পানির তোড়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত বাঁশের পাইলিংও ভেঙে যাচ্ছে।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি উলিয়া বাজার রক্ষা বাঁধের ভাঙন স্থান পরিদর্শন করেছি।’

জামালপুর পানি উন্নয়নের বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী বলেন, ‘বাঁধ রক্ষায় বালিভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেছি। আশা করি, ভাঙন রোধ হবে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’