এলাকাবাসী জানায়, মেলান্দহের ঝাউগড়া ইউনিয়নের শেখসাদী ফকিরপাড়া গ্রামের মজিদ ফকিরের চার ছেলে। বড় ছেলের নাম হেলাল, দ্বিতীয় ছেলের নাম বেলাল, তৃতীয় ছেলের নাম রেজ্জাক এবং ছোট ছেলের নাম রুকন। রুকন বিবাহিত। তার স্ত্রীর নাম শাহানা। তার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে রুপা (১২) ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী। ছোট মেয়ে রিভা (৯) দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। বেশ কিছুদিন থেকে তার বড়ভাই হেলাল রুকনের জমি হেলালের নামে লিখে দেওয়ার জন্য রুকনকে চাপ দিয়ে আসছিল। রুকন জমি বাড়ি তার নামে লিখে না দেওয়ায় হেলাল রুকনকে গুম করেছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশীরা জানায়। পরে হেলাল রুকনের জমি বাড়ি দখল করে নেয়। রুকনের রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে থানায় কোনও মামলা বা জিডিও করা হয়নি। বাড়ির লোকজন যাতে মুখ না খোলে তার জন্য সবাইকে হেলাল ভয়ভীতি দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখছে।
এ ব্যাপারে হেলালকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি। হেলাল বলেন, ‘রুকন আধা পাগল ছিল। তাই সে বাড়ি ছেড়ে কোথায় চলে গেছে জানা যায়নি।’ রুকনের বাবা বৃদ্ধ মজিদ ফকিরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘রুকন কোথায় চলে গেছে আমি জানি না।’ রুকনের মা রেজিয়া খাতুনও একই কথা বলেন।
প্রতিবেশীরা আরও জানান, হেলাল সুদের ব্যবসা করেন। এক বছর আগে রুকন একদিন টাকা ধার নেওয়ার জন্য হেলালের শ্বশুর বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার বালুয়াটা গ্রামে যান। খবর পেয়ে হেলাল ও তার ছেলে সাদ্দাম সেখানে উপস্থিত হন। পরে হেলালের শ্যালক আব্দুর রাজ্জাক এবং সাদ্দাম হেলালের নামে জমি লিখে দেওয়ার জন্য মারধর করে রুকনকে। এরপর থেকেই নিখোঁজ হন রুকন।
প্রতিবেশীরা জানায়, শাহানাকে হেলাল বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। কাজের সন্ধানে মেয়ে দুটিকে তার শ্বশুর মজিদ ফকিরের কাছে রেখে শাহানা ঢাকা চলে যান। সেখানে তিনি একটি গার্মেন্টস এ চাকনি নেন। তার রোজগারের টাকায় মেয়ে দুটিকে লালন পালন ও লেখাপড়া করাচ্ছেন মজিদ ফকির। মোবাইল ফোনে শাহানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘হেলালের অত্যাচারে আমি প্রথমে বাবার বাড়ি এবং পরে ঢাকা চলে আসি। রুকনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।’
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘রুকন নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে থানায় কোনও মামলা বা জিডি হয়নি। আমি তিন মাস ধরে এ থানায় যোগদান করেছি। তাই এব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’