মামলার বিবরণে জানা যায়, জামালপুর-৫ (সদর) আসনে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীদের নামে ৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। ৩ মামলায় ৭২ জনের নাম উল্লেখ এবং ১১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নে রশিদপুরে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনি কেন্দ্র ভাঙচুর, নেতাকর্মীদের মারধর ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান বাদী হয়ে নির্বাচনি কেন্দ্র কমিটির আহ্বায়ক ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সুলতান আহম্মেদসহ ২৯ জন বিএনপির নেতাকর্মীর উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ২৫/৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
সদরের ঘোড়াধাপ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনি কেন্দ্র ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগে ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদ বাদী হয়ে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্র কমিটির আহ্বায়ক ফজলে রাব্বী বাবুসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪০/৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তুলশীর চর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের কেন্দ্র ভাঙচুরের অভিযোগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম লিটন বাদী হয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মুছা সালামসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ আরও ২০/৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছিমুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জামালপুর-৫ (সদর) আসনে ঐক্যজোট প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, ‘নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে বিএনপিকে সরানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনি প্রচার ক্যাম্প ভাঙচুর ও কর্মী সমর্থকদের মারধর করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সদর উপজেলার পৌর এলাকা ও প্রত্যেক ইউনিয়নে নির্বাচনে দায়িত্বরত নেতাকর্মীদের ধরপাকড় ও বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশির নামে পুলিশি হয়রানি করছে। এসব ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে জেলা রিটার্নি অফিসারের কাছে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছি।’
অপরদিকে মেলান্দহের আদ্রা গ্রামে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনি কেন্দ্র ভাঙচুর, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগে গুজামানিকা গ্রামের আদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল করিম বাদী হয়ে জেলা বিএনপি নেতা জাকির হোসেনসহ ৫৫ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
এছাড়াও নয়ানগর গ্রামে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনি কেন্দ্র ভাঙচুর, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগে উপজেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম সম্পাদক কামরুল হাসান বাদী হয়ে মেলান্দহ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি হযরত আলীসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ এবং আরো ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী সাখাওয়াত হোসেন মামলা দায়েরের বিষয়টি জানিয়েছেন।
মামলা প্রসঙ্গে মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম রফিকুল ইসলাম রহিম বলেন, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের হয়রানি করা হচ্ছে। আতঙ্ক সৃষ্টি করে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এসব কাজ করা হচ্ছে।’