মৌমাছি আক্রমণ আতঙ্কে সাজালেরচর কেন্দ্রের ভোটাররা





ইসলামপুরের সাজালেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মৌচাকজামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের একটি কেন্দ্র ৬৮ নম্বর সাজালেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই কেন্দ্রে দুইটি গ্রামের ভোটাররা এবারের নির্বাচনে ভোট দেবেন। দুই তলাবিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় মিলে প্রায় ২৪টি মৌচাক রয়েছে। ভোট দিতে গিয়ে মৌমাছির আক্রমণের শিকার হতে পারেন, এমন আতঙ্কে রয়েছেন কেন্দ্রটির ভোটাররা।

ইসলামপুরের সাজালেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মৌচাকআওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা শামসুজ্জামান সেলিমসহ এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই কেন্দ্রে চিনারচর ও পেঁচারচর গ্রামের ৪ হাজার ৬০০ ভোটার ভোট দেবেন। ভোটের দিন যদি কেউ মৌচাকে ঢিল ছোড়ে বা কোনোভাবে মৌমাছিদের বিরক্ত করে তাহলে ভোটারদের একযোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ভোট গ্রহণ বাধাগ্রস্ত ও কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার উপক্রম হতে পারে।

ইসলামপুরের সাজালেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মৌচাক ও মৌমাছি পুড়িয়ে ফেলা হয়স্থানীয় প্রকৃতি সচেতন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘এই বিদ্যালয় ভবনে ছোট বড় মিলিয়ে মোট ২৪টি মৌচাক রয়েছে। আমি গত ২৫ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানায়। তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তারপর শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আগুন দিয়ে মৌচাক পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়। এতে করে এসব চাকের অনেক মৌমাছি মারা যায়। কিছু মৌমাছি অন্যত্র উড়ে যায়। সাময়িকভাবে মৌমাছিগুলো উড়ে গেলেও, পরে আবারও দেয়ালে তারা বাসা বেঁধেছে।

ইসলামপুরের সাজালেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মৌচাক ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, এভাবে মৌচাক নষ্ট করায় মৌমাছিরা তাদের আবাস, বাচ্চা ও মধু হারিয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে এবং যে কোনও সময় আক্রমণ করতে পারে। স্থানীয় ভোটাররা এই কেন্দ্রটি পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক নিয়মে মধু আহরণ, মৌমাছি ও মৌচাক অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

জামালপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আহমেদ কবীর বলেন, ‘এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’