অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনগুলো হলো- রাংটিয়া আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাংটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম বাকাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘাগড়া কামাড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘাগড়া লস্কর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মালিঝিকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ মালিঝিকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর কান্দুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ঝিনাইগাতী উপজেলার ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আর সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৬৫টি । পাকা ভবন নেই ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ।
ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, একটি চার কক্ষের পাকা বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, রডও দেখা যাচ্ছে। পাকা এই বিদ্যালয় ভবন ১৯৯৩-৯৪ সালে নির্মিত। উপজেলা প্রকৌশলীর দফতর ভবনটিকে ২০১৩ সালে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ফলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে অনেক আবেদনের পর ওই ভবনের পাশেই ২০১৬ সালে নির্মাণ করা হয়েছে তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনশেড ঘর। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট ও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষকরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পরীক্ষা নিচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
রাংটিয়া গ্রামের মো. নজরুল মিয়া বলেন, কখন যে দুর্ঘটনা ঘটে, ঠিক নেই। সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি।
ঝিনাইগাতী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোবাখখারুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পাকা বিদ্যালয় ভবনের মধ্যে ৯টি ভবন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকা করে উপজেলা প্রকৌশলীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী দফতর যাচাই-বাছাই শেষে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করলে ওই ভবনগুলোর ব্যবহার বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হবে।’
ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা অফিসের তালিকা অনুযায়ী ইতোমধ্যে দুটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। এরমধ্যে রাংটিয়া আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। বাকিগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট দফতরে তালিকা পাঠানো হবে।’