শেরপুরের কৃষকরা বোরো ধান আবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন

 শেরপুর

এক সময় বোরো ধানের মওসুম মানেই ছিল কৃষকের মুখে ভুবন মাতানো হাসি। কিন্তু এখন হাসির বদলে হতাশ কৃষকরা। কারণ হলো, ধানের দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নন তারা। আবাদের আসল টাকাই তাদের ঠিক মতো উঠছে না। এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন ধান কাটা শ্রমিক। মাঠজুড়ে সোনালী ধান কাটা ও মাড়াইয়ের দৃশ্য দেখা গেলেও কৃষকরা হতাশায় রয়েছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, শেরপুরের প্রান্তিক কৃষকরা কেউ ধান কেটে ঘরে আনছেন, কেউবা খলায় শুকাচ্ছেন। অনেক স্থানে আবার ধান কাটার আধুনিক যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। হাজার হাজার কিষাণ-কিষাণী মাঠে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

প্রকৃতি নির্ভর এই বোরো ফসলকে ঘিরে পাহাড়ি এই জনপদে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। স্বপ্নের কাঁচাধান সময় মতো পাঁকতে শুরু করেছে। অনেকেই ধান গোলায় তুলছেন। তবে চলতি বছর বোরো ধান ঘরে উঠলেও এখনো সরাসরি সরকারি গুদামে ধান দিতে না পারায় লাভের মুখ দেখছেন না তারা।

সরকারি হিসেবে প্রতি মণ ধান ১০৪০ টাকা হলেও কৃষকদের বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এতে করে কৃষকদের আবাদের আসল টাকা ঠিকমতো উঠছে না।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন এখন প্রতিদিনই বোরো ফসল কাটা হচ্ছে। কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। এসব যন্ত্র দিয়ে দ্রুত রোপণ ও ধান কাটাসহ মাড়াই করেছেন কৃষকরা। সবকিছুর পরও নেই কোনও উৎসবের ছোয়া। আবাদের আসল টাকা উঠাতে না পেরে হতাশ কৃষকরা।

সদর উপজেলার পূর্ব জিনিয়া এলাকা বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্টে জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করছি। ধানে সার দেওয়া,পরিচর্যা করা থেকে শুরু করে ধান কাটার সময়ও শ্রমিকের মজুরির টাকা দিতে হয়। কিন্তু বর্তমান বাজারে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০০ টাকা মণ। এতে করে আমার আবাদের আসল টাকাই উঠেনি। আগামী দিনে ধানের আবাদই করবো না।’

আরেক কৃষক তপা খন্দকার বলেন,‘বাবা মারা গেছে। ধার করে বোরো ধান আবাদ করেছিলাম। বাজারে ধানের দাম না থাকায় এখন  আসল টাকাই তুলতে পারি নাই।’

কৃষাণী জয়বানু বেগম বলেন,‘৪ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলাম। ধান আবাদের খরচ ও ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি বেশি হলেও ধানের দাম নেই। এখন লোকসান দিয়ে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, চলতি মওসুমে জেলার ৫টি উপজেলায় ৮৯ হাজার ৫শ’ ৫৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৯১ হাজার ৭২ হেক্টর জমিতে।  ইতিমধ্যে প্রায় তিন ভাগের একভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে।

বাজারে ধানের দাম কিছুটা কম তবে আমি বোরো আবাদের পরিবর্তে কম খরচে আউশ ধান ও ভুট্টা চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহী হতে পরামর্শ দিব। কেননা, বোরো মওসুমে শ্রমিকের অভাব থাকে, সার বীজসহ অন্য খরচও বেশি। আউশ ধান চাষে খরচ অনেক কম।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফরহাদ খন্দকার বলেন,‘আমরা এরইমধ্যে ধান ও চাল বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা পেয়েছি। এখন আমরা উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ মনিটরিং কমিটির কাছ থেকে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা নিবো এবং সেই কৃষকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ তিন মেট্রেক টন ধান ২৬ টাকা কেজি দরে আমরা সরকারি কিনবো। আমরা যখন গুদামে ধান নেওয়া শুরু করবো তখন অবশ্যই কৃষকরা লাভবান হবেন। ধানের দামও বৃদ্ধি পাবে।