ময়মনসিংহ সদরের চররাঘবপুর গ্রামের আলু চাষি আবু তাহের চলতি মৌসুমে ৫০ শতক জমিতে দেশীয় জাতের আলু চাষ করেছিলেন। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার ও শ্রমিক বাবদ এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৮ হাজার টাকার মতো। ঘনকুয়াশায় পাতাসহ গাছ মরে যাওয়ায় অপরিপক্ক আলু ওঠাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। আলু পেয়েছেন মাত্র ১৫ মণ। ক্ষেতেই পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতিমণ আলু বিক্রি করছেন এক হাজার টাকা দরে। এ হিসেবে ১৫ মণ বিক্রি করে পেয়েছেন ১৫ হাজার টাকা। ফলে তার ক্ষতি হয়েছে ৩ হাজার টাকা।
আবু তাহের জানান, গত বছর আলু চাষ করে ৫০ হাজার টাকার মতো লাভ হয়েছিল। এবারও তিনি কার্তিক মাসে ৫০ শতক জমিতে আলু চাষ করেন। গাছে আলুও ভালোই ধরেছিল। পৌষের শুরু থেকেই তীব্র শীত ও ঘনকুয়াশায় প্রথমে পাতা মরতে থাকে। পরে গাছগুলো মরে যায়। গাছ মরে যাওয়ায় অপরিপক্ক আলু তুলেছেন।
একই গ্রামের হামিদুল হক এক একর জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। তার ক্ষেতের সব গাছ মরে গেছে। চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো। এখন অপরিপক্ক আলু উঠাতে শ্রমিক বাবদ আরও ৫ হাজার টাকা প্রয়োজন। লোকসান গুণতে হবে ভেবে এবং হাতে কোনও টাকা না থাকায় শ্রমিক দিয়ে আলু উঠাতে পারছেন না।
হামিদুল হক জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ফলন ভালো হলে আলু বিক্রি করে এ বছর এক লাখেরও ওপরে লাভ হতো। গাছ মরে যাওয়ায় প্রায় খরচ ওঠানো তো দূরে থাক আসলের অর্ধেকই লোকসান গুনতে হবে।
জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মাজেদ জানান, চলতি বছর জেলায় ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। আলু চাষ ভালো হলেও পৌষের শীতের কুয়াশায় আলু গাছ মরে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সহায়তা দিতে তালিকা করা হচ্ছে।