এলাকাবাসী জানান, নিজ নিজ বাড়ির সামনে রাস্তার ওপর সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঘণ্টাব্যাপী দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড। যেমন: 'ত্রাণ চাই-বাঁচতে চাই', 'কেউ খাবে, কেউ খাবে না–স্বাধীন দেশে তা হবে না', 'সরকারি ত্রাণ চুরি হয় কেন?—প্রশাসন জবাব চাই', 'গরিবের জন্য সাহায্য দেবে সরকার, তা খাবে শুধু মেম্বার—তা হবে না, তা হবে না' ইত্যাদি।
বিক্ষোভকারীদের একজন আব্দুল খালেক। এলাকায় খিচুড়ি বিক্রি করেন। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, 'দোকান বন্ধ। হাতে যা টাকা ছিল শেষ হয়ে গেছে। ঘরে খাবার নেই, এখন কী খাবো। কীভাবে চলবো। চিন্তায় ঘুম আসে না।'
এ সময় জোসনা, গাজী, মন্টু, হনুফা বেগম, রুস্তম, জাহানারাসহ একাধিক ব্যক্তি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, ‘এই এলাকার একজনও সরকারিভাবে কোনও অনুদান পাইনি। কাজ করতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে- অর্ধহারে আছি। এভাবে আর কয়দিন চলতে থাকলে করোনা ভাইরাসে নয়; না খেয়েই মারা যাবো।’
চা বিক্রেতা রুস্তম ও বাবুল বলেন, 'অনেক দিন হলো চা-পান বিক্রি করতে পারছি না। দোকান বন্ধ। পরিবার-পরিজন নিয়া অনেক সময় না খেয়ে থাকি।'
রিকশাচালক বাবর আলী বাবু বলেন, 'আমি রিকশা চালায়। এখন চালাতে দিচ্ছে না। ৬ সদস্যের পরিবার আমার। খেয়ে না খেয়ে কোনও মতে বেঁচে আছি। এভাবে চলতে থাকলে না খেয়েই মরে যাবো।’