খোলাবাড়িরচর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোলাবাড়িরচর উচ্চ বিদ্যালয় ও খোলাবাড়িরচর মাদ্রাসা নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রায় ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষকরা। স্থানীয়রা বলছেন, ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় অবিরাম ভাঙনে মুখোমুখি হচ্ছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
খোলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম সিরাজী বলেন, ‘গত বছর জুলাই মাসের ১৭ তারিখে আমাদের স্কুল ভেঙে গেছে। বিকল্প কোনও জায়গা না পেয়ে বাজারের এক কোণে একটি টিনসেড ঘরে গাদাগাদি করে পাঠদানের কাজ চলছিল। গত সপ্তাহে তাও নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।’
খোলাবাড়িরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়মা আঞ্জুমান আরা, সুমন, রহিমা, আসমা, নজরুল জানায়, তাদের স্কুল নদীতে বিলীন হওয়ায় লেখাপড়া বন্ধ প্রায়। তাই দ্রুত স্কুলটি পুনর্নির্মাণ করার দাবি জানায় তারা।
বাহাদুরাবদ নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘যেভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে যে কোনও মুহূর্তে থানাটি নদী গর্ভে চলে যাবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাইদ জানান, নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় এমন একটি সরকারি ভবন নির্মাণ করার আগে কোনও মতামত নেওয়া হয়নি। তবে ভাঙন রোধে খোলাবাড়ি থেকে ফুটানি বাজার পর্যন্ত ৮০০ কিলোমিটার অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলতে ৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে টেন্ডার করা হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘খোলাবাড়ী রক্ষার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে ভাঙনের বিষয়ে অবহিত করে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে।’