‘ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বড় ছেলেকে খুন করে পিতা’

প্রেস ব্রিফিংয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন জামালপুরে ঈদুল আজহার পরের দিন (২ আগস্ট) অজ্ঞাত একটি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ছোট ছেলে ও সঙ্গে আরও দুই জনকে নিয়ে বড় ছেলেকে খুন করেন পিতা। এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। নিহত আল আমিনের বাড়ি শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী উপজেলার কাজীগলি গ্রামে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে জামালপুরের পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ২ আগস্ট ঈদুল আজহার পরের দিন সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের পূর্বপাড়দিঘুলী এলাকায় একটি কালভার্টের পাশে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটির ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হলে তার পিতা পরের দিন জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে এসে তার বড় ছেলে বলে নিশ্চিত করে।

এরপর পিতা আমিরুল গত ৫ আগস্ট বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। হত্যার কারণ অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে নিহত আল আমিন মাদকাসক্ত ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১০ আগস্ট নিহতের ছোট ভাই আরিফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, মাদকাসক্ত হওয়ায় বড় ভাইকে খুন করার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ আগস্ট আগে থেকেই পিতা আমিরুল, নানা মো. আক্তারুজ্জামান দুদু (৪৮) ও রুবেল মিয়া (২০) জামালপুর সদর উপজেলার ছোনটিয়া এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে বাবাকে বাড়ি নিয়ে আসার কথা বলে ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম বড় ভাই আল আমিনকে মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। ঘটনাস্থলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া পিতা ও অপর দুই জন আল আমিনের হাত-পা বেঁধে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে যায়। আরিফুল ইসলামের কাছ থেকে হত্যার স্বীকারোক্তি পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত জামালপুর সদর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মো. আক্তারুজ্জামান দুদু ও কাষ্টসিংগা গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে রুবেল মিয়াকে ১১ আগস্ট তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত তিন জনের কাছেই ঘটনার একই রকম বর্ণনা জানা যায়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, আদালতে সোপর্দের পর ওই তিন জনকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের পিতা মামলা দায়ের করলেও সে এখন আসামি হয়ে যাবে। তাকে গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।