প্রতিমা কারিগর দিলীপ পাল, ময়মনসিংহ মহানগরীর নতুন বাজার এলাকার পাল সম্প্রদায়ের এই বনেদি কারিগর গত ৫০ বছর ধরে আঁকড়ে আছেন বাপ-দাদার কাছ থেকে শেখা প্রতিমা তৈরির কাজ। কিন্তু এখন আর আগ্রহ নেই এই কাজে। কারণ করোনাকালীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর প্রতিমা তৈরির উপকরণ সামগ্রীর দাম বাড়ায় তাল মেলাতে পারছেন না। ফলে প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়ে হতাশ তিনি।
দিলীপ পাল জানান, করোনাকালীন এবার প্রতিমা তৈরির অর্ডার অর্ধেকে নেমে এসেছে। গতবার যেখানে ৩২টি পূজা মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছিলেন। এবার করোনার প্রভাবে সেই জায়গায় মাত্র ২০টি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছেন। আবার মজুরিও অর্ধেকে নেমে এসেছে।
করোনাকালীন প্রতিমা তৈরির ন্যূনতম মজুরি না পাওয়ায় ময়মনসিংহের অন্যান্য কারিগরদের মাঝেও বিরাজ করছে হতাশা। অনেকে আবার বাপ-দাদার পেশা বদলে জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।
জুবলিঘাট এলাকার প্রতিমা কারিগর নিখিল চন্দ্র পাল (৬০) জানান, করোনায় মজুরি কমে যাওয়ায় অনেক কারিগর এই পেশা ছেড়ে হকারি, মুদি দোকানিসহ নানা পেশায় চলে যাচ্ছেন। এবার প্রতিমা তৈরিতে কারিগর সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি আরও জানান, পূজার উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরি করে কারিগরদের মজুরি পরিশোধের পর হাতে আর কিছুই থাকছে না। বিশেষ করে বিভিন্ন মণ্ডপের পূজা পরিচালনার কমিটির সদস্যরা এবার প্রতিমা তৈরিতে আগের মতো আর টাকা দিচ্ছেন না। তারা বলছেন, করোনার প্রভাবে এবার পূজার কাঙ্ক্ষিত চাঁদা উঠাতে পারছেন না তারা।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শংকর সাহা জানান, করোনাকালীন প্রতিমা কারিগরদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় আর্থিক সহায়তা দিতে না পারলে এই পেশা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমলে নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা এই নেতার।
প্রতিমা কারিগরদের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পৃষ্টপোষকতার উদ্যোগ নেবে সরকার, বাঁচিয়ে রাখবে ঐতিহ্যের এসব কারিগরদের—এরকম প্রত্যাশা সবার। কোনোরকম জাকজমক ছাড়াই এবার জেলায় ৭৭০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।